সিলেট নগরের রায়নগর এলাকায় এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বাবুল মিয়াকে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এখনও মামলা দায়ের করা হয়নি বলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাঈনুল জাকির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, বুধবার রায়নগরের ‘মিতালি ১১১’ নম্বর বাসা থেকে গৃহকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহকর্মী তাহমিনার (২৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে জানা গেছে, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছিল বাবুল। তাহমিনা তা প্রত্যাখ্যান করে গালি দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে বুধবার সকালে ছুরি নিয়ে বাসায় প্রবেশ করে সে। বাবুল প্রথমে তাহমিনাকে কুপিয়ে জখম করে। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তারকেও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে সে।
ঘটনার পরদিনই রায়নগর রাজবাড়ী এলাকা থেকে বাবুলকে (৪০) আটক করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা ছোরাও উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক এবং মহানগর আওয়ামী লীগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক উপদেষ্টা ছিলেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, নিহত দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী দুই মেয়ে বৃহস্পতিবার দেশে ফেরেন। তারা বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ রায়নগরের বাসায় নিয়ে যান। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ছেলে আরিফ ইফতেখার দেশে পৌঁছালে শুক্রবার দাফন ও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই বাসভবনে পুলিশ প্রহরা বসানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ময়নাতদন্ত শেষে নিহত গৃহকর্মী তাহমিনা আক্তারের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতকের দোয়ারাবাজারে নিয়ে দাফন করা হয়েছে।