জাতীয় সংসদের ৭০ অনুচ্ছেদ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিলের বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবীর করা রিট আবেদন হাইকোর্টে জমা পড়েছে। এই রিটে ৭০ অনুচ্ছেদকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

রিট আবেদনকারী আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ জানান, আজ বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দাখিল করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আগামী রোববার এই রিটের ওপর শুনানি হতে পারে।

উল্লেখ্য, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য গত ৬ আগস্ট তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ওই তফসিল অনুযায়ী ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণের কথা নির্ধারিত রয়েছে।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি (ক) ওই দল হতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহলে সংসদে তাঁর আসন শূন্য হবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবেন না।

রিট আবেদনে এই ৭০ অনুচ্ছেদ এবং ৬ আগস্টের তফসিলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রার্থনায় বলা হয়েছে, ৭০ অনুচ্ছেদ কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ইসির ৬ আগস্টের তফসিল কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। রুল জারি না হওয়া পর্যন্ত বিচারাধীন অবস্থায় ৬ আগস্টের তফসিলের কার্যক্রম স্থগিত করার আবেদন করা হয়েছে রিটে।

পরবর্তীতে আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "৭০ অনুচ্ছেদ সংবিধান ও গণতন্ত্রের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ থাকবে না। এতে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা থাকে না। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। কারণ, ৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল না হলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অর্থহীন। এ ক্ষেত্রে নির্বাচনের প্রয়োজন হয় না। কারণ, বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে।"

এর আগে একই বিষয়ে রিট করেছিলেন ইউনুছ আলী আকন্দ। ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ সে বিষয়ে বিভক্ত আদেশ দেন। তখন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি রুল দিলেও অপর বিচারপতি রিটটি খারিজ করে দেন। পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টের একটি একক বেঞ্চে (তৃতীয় বেঞ্চ) পাঠান এবং ওই বছরের ১৮ মার্চ একক বেঞ্চ রিটটি খারিজ করেন।

নতুন করে রিট করার বিষয়ে ইউনুছ আলী আকন্দ জানান, আগের রিটটি মোশন হিসেবে খারিজ হয়েছিল। মোশন হিসেবে রিট খারিজ হলে নতুন যুক্তি দিয়ে পুনরায় রিট করা যায়। বর্তমান রিটে আগের সেই খারিজের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।