সিলেট নগরের রায়নগর আবাসিক এলাকার ‘মিতালী ১১১’ নম্বর বাসায় বৃদ্ধ দম্পতি ও গৃহকর্মীর নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে আটক আসামি বাবুল মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রায়নগরের একটি খালি জায়গা থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) উপকমিশনার (উত্তর ও প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা ছুরির ধাতব অংশে শুকিয়ে যাওয়া রক্তের দাগ রয়েছে, যা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত রক্তের নমুনার সঙ্গে এই রক্তের মিল থাকলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। আলামত বিশ্লেষণে পুলিশের ধারণা, হত্যাকাণ্ডের পর ছুরিটি ধোয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। এছাড়া বাসার বেসিন ও একটি ব্যাগেও রক্তের দাগ পাওয়া গেছে।
উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, আসামির দেওয়া বর্ণনার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া চাকুটির মিল রয়েছে। পেশায় রংমিস্ত্রি বাবুল মিয়া কসাইয়ের কাজও করতেন, যার কারণে তার কাছে এ ধরনের মজবুত চাকু ছিল। জিজ্ঞাসাবাদের সময় বাবুল জানান, কাজ করার সূত্রে নিহত গৃহকর্মীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। গৃহকর্মীর কোনো এক আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ধারালো ছুরি নিয়ে ওই বাসায় যান।
আসামির ভাষ্যমতে, প্রথমে গৃহকর্মীর ওপর হামলা চালানো হলে তাকে বাঁচাতে গৃহকর্ত্রী ও পরে গৃহকর্তা এগিয়ে আসেন। এরপর একে একে তিনজনকেই ছুরিকাঘাত করে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান বাবুল। পালানোর সময় বারান্দার রেলিং ও নিচে রক্তের ছাপ পাওয়া গেছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডে তার সঙ্গে অন্য কেউ যুক্ত ছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বাসা থেকে কোনো মূল্যবান জিনিস খোয়া গেছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মামলার বিষয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, নিহত দম্পতির প্রবাসী সন্তানরা দেশে এসে এজাহার দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এজাহার পেলেই তা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হবে এবং আটক বাবুলকে আদালতে তোলা হবে।
উল্লেখ্য, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রায়নগরের ওই বাসায় এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ বাসা থেকে মালিক এম আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৮২) এবং গৃহকর্মী তাহমিনা আক্তারের (১৫)-এর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার সাত ঘণ্টার মধ্যেই একই এলাকার একটি কলোনি থেকে অভিযুক্ত বাবুল মিয়াকে আটক করা হয়।