নোয়াখালীকে সিটি করপোরেশন হিসেবে ঘোষণা ও তা বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছে নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়ন (এনইউজে)। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের মাধ্যমে এই স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করা হয়।

নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি লিয়াকত আলী খান ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে সংগঠনের একটি প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে আবেদনপত্রটি জমা দেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নোয়াখালী দেশের একটি সুপ্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী জেলা। বর্তমানে এই জেলায় ৯টি উপজেলা, ১০টি থানা ও ৮টি পৌরসভা রয়েছে। একসময় পুরো ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলাও নোয়াখালীর অন্তর্ভুক্ত ছিল। ৩৬৮৫.৮৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই জেলার প্রশাসনিক সদর দপ্তর মাইজদীতে অবস্থিত।

স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯-এর ৩(৪) ধারা অনুযায়ী সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন তথ্যের কথা স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, প্রস্তাবিত নোয়াখালী সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত আয়তন ৫৭.৬৫ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা চার লাখ ৫৭ হাজার ৮৭৯ জন, যেখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে সাত হাজার ৯৪২ জন।

স্মারকলিপিতে আরও জানানো হয়, নোয়াখালী পৌরসভা ও চৌমুহনী পৌরসভার দূরত্ব মাত্র ৬ কিলোমিটার। নোয়াখালী-কুমিল্লা ফোরলেন সড়কের মাধ্যমে নোয়াখালী পৌরসভার কাদির হানিফ ইউনিয়ন, একলাশপুর ইউনিয়ন ও চৌমুহনী পৌরসভা পরস্পর যুক্ত। এই এলাকায় পাটকল, এগ্রো প্রডাক্ট, পোল্ট্রি ফিড, হ্যাচারি, ফুড অ্যান্ড বেভারেজসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, বিসিক শিল্প নগরী, বিমানবন্দর ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে।

সাংবাদিক নেতারা স্মারকলিপিতে জানান, গত ১ মার্চ স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠা বিধিমালা ২১০-এর বিধি ৪-এ বর্ণিত শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করেছেন।

স্মারকলিপি প্রদানকালে নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি বলেন, "দল, মত, ধর্ম নির্বিশেষে নোয়াখালীর সর্বস্তরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি নোয়াখালীকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা। নোয়াখালী পৌরসভা, কাদির হানিফ ইউনিয়ন, নোয়ান্নই ইউনিয়নের একাংশ, একলাশপুর ইউনিয়ন ও চৌমুহনী পৌরসভাকে একত্রিত করে সিটি করপোরেশন বাস্তবায়ন করা হলে জেলার সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আমরা আশা করি।"

স্মারকলিপি প্রদান অনুষ্ঠানে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।