ছাত্ররাজনীতি দিয়ে শুরু হওয়া দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিযাত্রায় এখন বাংলাদেশের ২৩তম ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি’ হওয়ার পথে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বর্তমান সরকারের এলজিআরডি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই কারণে তিনি দলের মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে নির্বাচন কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবন প্রায় ছয় দশকের। ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী এবং আইনজীবী মির্জা রুহুল আমিন এবং মা মির্জা ফাতেমা আমিন।

শিক্ষাজীবনের কথা বললে, ঠাকুরগাঁও থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন শাখার সভাপতি এবং এসএম হল শাখার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

শিক্ষাজীবন শেষে ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন মির্জা ফখরুল। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশের আগে সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত থাকলেও ১৯৮৬ সালে ইস্তফা দেন তিনি। ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পান।

২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি বিএনপি সরকারের কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পর ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তাকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে ২০১১ সালের ২০ মার্চ থেকে পাঁচ বছর দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের শাসনকালে বিএনপির অন্যতম কাণ্ডারী হিসেবে পরিচিত মির্জা ফখরুল। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রবাসে অবস্থানকালে দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন আন্দোলনের মূল নেতৃত্বে ছিলেন তিনি।