পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় এক গৃহবধূর ঘরে ঢুকে তার মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং গোপনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে দেবীগঞ্জ থানায় ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে সোহেল রানা, সাহেল খাতুন ও সমসের আলীকে গ্রেপ্তার করে। তারা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এছাড়া এই মামলায় রাকিব ইসলাম, আবুল হক ও সুজন ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ৬ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ভুক্তভোগী নারী গত ১২ জুন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর তিনি দারগালী নামের এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরেই দাম্পত্যজীবন শুরু করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত সোমবার (১০ আগস্ট) আসামিরা ভুক্তভোগীর ঘরে ঢুকে গালিগালাজ শুরু করে এবং তার ধর্মান্তরিত হওয়ার ও বিয়ের হলফনামা (অ্যাফিডেভিট) ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে। এসময় তার একটি স্মার্টফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। অভিযুক্ত রাকিব ইসলাম লোহার রড দিয়ে তার মুখে আঘাত করলে একটি দাঁত ভেঙে যায়। সোহেল রানা ব্লেড দিয়ে ভুক্তভোগীর মাথার অর্ধেক চুল কেটে ফেলেন এবং রাকিব ইসলাম তার হাত-পা চেপে ধরে গোপনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেন। বাধা দিতে এলে তার স্বামীকেও মারধর করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, আসামিরা ঘরে থাকা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের মালামাল ভাঙচুর ও লুটপাট করে। তারা নগদ ৮৫ হাজার টাকা এবং ৬৬ হাজার টাকা মূল্যের ১১ মণ বাদাম চুরি করে নিয়ে যায়। এছাড়া তিনটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর নেওয়া হয়। একপর্যায়ে স্বামী-স্ত্রীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন এবং ভুক্তভোগী নারীকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ঘটনা প্রসঙ্গে দেবীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রভাস চন্দ্র রায় বলেন, "মামলা হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন। তাদেরকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"