যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল ঐতিহ্যবাহী কুষ্টিয়া জিলা স্কুল। বোর্ডের মেধাতালিকায় শীর্ষস্থান দখল করে প্রতিষ্ঠানটির তিন শিক্ষার্থী অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২২২ নম্বর পেয়ে বোর্ডে প্রথম হয়েছেন প্রভাতী শিফটের শিক্ষার্থী সামিউল হক সিমন। এছাড়া ১২২০ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন একই বিদ্যালয়ের আহাদ হোসেন প্রিন্স ও হাসনাইন।

চলতি বছর কুষ্টিয়া জিলা স্কুল থেকে মোট ২৯০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে ১৫৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন এবং বিদ্যালয়টির গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৭.৯৩ শতাংশে।

বোর্ডে প্রথম হওয়া সামিউল হক সিমন ২০১৮ সালে তৃতীয় শ্রেণিতে এই বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তার বাবা রকিবুল হক শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) এবং মা শামীমা আহমেদ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের পুষ্টিবিদ হিসেবে কর্মরত। নিজের ফলাফলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সিমন বলেন, "ভবিষ্যতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পড়াশোনা করে একজন সফল প্রকৌশলী হতে চাই। আমার এই সাফল্যের পেছনে বাবা-মা ও শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।"

অন্যদিকে, যৌথভাবে তৃতীয় স্থান অর্জনকারী আহাদ হোসেন প্রিন্স বলেন, "আমি দেশের জন্য ভালো কিছু করতে চাই। একজন সত্যিকারের ভালো মানুষ হয়ে দেশ ও সমাজকল্যাণে কাজ করতে চাই।"

শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়েছে পুরো কুষ্টিয়াজুড়ে। কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুন্সী কামরুজ্জামান বলেন, "আমাদের শিক্ষার্থীরা বরাবরের মতোই মেধার সর্বোচ্চ স্বাক্ষর রেখে বিদ্যালয়ের নাম ও ঐতিহ্যকে সুউচ্চে তুলে ধরেছে। বোর্ডে প্রথম ও তৃতীয় স্থান অর্জনসহ সিমন, প্রিন্স ও হাসনাইনের এই অনন্য সাফল্য পুরো কুষ্টিয়াবাসীর জন্য গর্বের। তারা ভবিষ্যতে সততা ও মূল্যবোধে বলীয়ান হয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।"

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালেও এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহসানুল হক শেফাত বোর্ডে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন।