প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে বরাবরই অপ্রতিদ্বন্দ্বী দিশারী চাকমা। এবার মাধ্যমিক পরীক্ষায় নিজের প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পুরো খাগড়াছড়ি জেলার মধ্যে সেরার অবস্থান ধরে রেখেছে সে।

খাগড়াছড়ির নতুন কুঁড়ি ক্যান্টনমেন্ট উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী দিশারী চাকমা ১৩০০ নম্বরের মধ্যে ১২৫১ নম্বর পেয়েছে। এই অভাবনীয় সাফল্যের মাধ্যমে সে খাগড়াছড়ি জেলায় প্রথম এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের মেধাতালিকায় ২১তম স্থান অর্জন করেছে।

দিশারী খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার মধুপুর এলাকার বাসিন্দা দিলীপ কুমার চাকমা ও লাভলী চাকমার কন্যা। তার এই সাফল্যে পরিবার, বিদ্যালয় এবং পুরো এলাকায় আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে। শিক্ষক ও স্বজনদের মতে, দিশারীর এই কৃতিত্ব অধ্যবসায়, নিয়মিত পড়াশোনা এবং পরিবার ও শিক্ষকদের সহযোগিতারই ফল, যা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

মধুপুর এলাকার বাসিন্দা সৃজনী চাকমা বলেন, "দিশারী আমাদের গর্ব। এই গর্ব শুধু আমাদের এলাকার নয়, বিদ্যালয় ও পুরো খাগড়াছড়ি জেলার। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।"

নতুন কুঁড়ি ক্যান্টনমেন্ট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. নাজিমুদ্দিন বলেন, "দিশারী সব সময় পড়াশোনায় এগিয়ে ছিল। ক্লাসে সে কখনও দ্বিতীয় হয়নি। তার এই কৃতিত্বে আমরা গর্বিত। তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।"

সন্তানকে পড়াশোনার জন্য চাপ দিতে হয়নি বলে জানান মা লাভলী চাকমা। তিনি বলেন, "আমার মেয়েকে কখনও পড়ার জন্য চাপ দিতে হয়নি। সে নিজেই সব সময় পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকত। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক ছিলেন। নিয়মিত খোঁজ-খবর নেওয়ার পাশাপাশি পড়াশোনার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। এ কারণে আজকের এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।"

বাবা দিলীপ কুমার চাকমা বলেন, "অনেক শিক্ষার্থী এবার আশানুরূপ ফল করতে পারেনি। সেখানে আমার মেয়ে জেলায় প্রথম হয়েছে এবং চট্টগ্রাম বোর্ডে ২১তম স্থান অর্জন করেছে। একজন বাবা হিসেবে আমি সত্যিই গর্বিত।"

খাগড়াছড়ি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র শিকদার জানান, এবার জেলার মোট সাত হাজার ৭৭৮ জন পরীক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে দিশারী চাকমা প্রথম স্থান অর্জন করেছে। তিনি একে পুরো খাগড়াছড়ি জেলার জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

নতুন কুঁড়ি ক্যান্টনমেন্ট হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শিবাজী কুমার দে জানান, তাদের বিদ্যালয় থেকে ৩০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। তিনি বলেন, "আমাদের বিদ্যালয় থেকে ৩০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাদের মধ্যে দিশারী চাকমা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জেলায় প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। দিশারী ছাড়াও আমাদের মানবিক বিভাগ থেকে প্রফেসি চাকমা ১৩০০ নম্বরের মধ্যে পেয়েছে ১১৩৯ এবং ব্যবসায় শিক্ষা থেকে ফারিয়া তাসনিম পেয়েছে ১১৭৩ নম্বর।"

সাফল্যের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, "শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সঠিক দিক নির্দেশনা এবং শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম। তাছাড়া আমাদের বিদ্যালয়ের সুশৃঙ্খল পরিবেশ ও অভিভাবদের সচেতনতার ফলে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। সর্বোপরি শিক্ষার্থীদের নিয়মতান্ত্রিক অধ্যবসায়ে এই কৃতিত্বের ভাগিদার হতে পেরেছি আমরা সবাই।"