বসতভিটা ও জমি লিখে না দেওয়ায় ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে নিজ বাবাকে খুনের অভিযোগে প্রবাসী ছেলে, পুত্রবধূ ও ভাড়াটে ঘাতকসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের পুত্রবধূ ও দুই চুক্তিভিত্তিক ঘাতককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) গভীর রাতে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে নিজ বসতঘরে মোহাম্মদ আলী (৭৫) নামের ওই বৃদ্ধ খুন হন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—নিহতের পুত্রবধূ হোসনা বেগম (৩৮) এবং হত্যায় সরাসরি অংশ নেওয়া দূরসম্পর্কের ভাগনে হাবিবনগর গ্রামের খায়রুল ইসলামের ছেলে রুহুল আমিন (২২) ও কুদ্দুস মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলাম (২০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বসতভিটার জমি লিখে দেওয়া নিয়ে মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে তার একমাত্র প্রবাসী ছেলে ইসমাইল মিয়া ও পুত্রবধূ হোসনা বেগমের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। জমি না দেওয়ায় ইসমাইল সৌদি আরব থেকে ৫০ হাজার টাকা পাঠিয়ে স্ত্রী হোসনা বেগমকে নিয়ে বাবাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ইসমাইলের প্ররোচনায় স্থানীয় রুহুল আমিন, নজরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমান নামের তিন যুবকের সঙ্গে চুক্তি করা হয়।

পুলিশের ভাষ্যমতে, হত্যাকাণ্ডের রাতে হোসনা বেগম ঘরের পেছনের দরজা খুলে দেন। এরপর ঘরে ঢুকে অভিযুক্তরা ঘুমন্ত মোহাম্মদ আলীকে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এই সময় হোসনা বেগম টর্চের আলো জ্বালিয়ে তাদের সহযোগিতা করেন বলে পুলিশের দাবি।

পরদিন শনিবার সকালে স্বজনরা মোহাম্মদ আলীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। দ্রুত মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় মরদেহের মুখে রক্তের চিহ্ন ও গলায় কালো দাগ দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরবর্তীতে নিহতের নাতনি মোছা. আছমা বেগম (২৬) বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এই বিষয়ে দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, "ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রধান অভিযুক্তসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।"

তিনি আরও জানান, প্রধান অভিযুক্ত হোসনা বেগম হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি ও তার স্বামী পরিকল্পনা করে ৫০ হাজার টাকায় তিনজনকে হত্যার জন্য চুক্তি করেন। ঘটনার রাতে তিনি ঘরের পেছনের দরজা খুলে দেন এবং হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করেন।