মাছরাঙা ও দীপ্ত টিভিতে আপনার দুটি ধারাবাহিক প্রচারিত হচ্ছে।

স্বর্ণলতা দেবনাথ : ঠিকই দেখেছেন। মাছরাঙায় ‘তেল ছাড়া পরোটা’ আর দীপ্ততে ‘রূপনগর’। দুই ধরনের গল্প। আমার চরিত্রও আলাদা করার মতো। এই দুই চ্যানেল ছাড়াও বাংলাভিশনে ‘মাথা গরম ফ্যামিলি’ এবং আরটিভিতে ‘ভাইরাল পরিবার’ ধারাবাহিকেও আমি আছি। চার চ্যানেলে চার ধারাবাহিক নাটক নিয়ে ব্যস্ত সময় যাচ্ছে।

মুক্তকণ্ঠ :

একসঙ্গে এত ধারাবাহিক, সমস্যা হয় না?

স্বর্ণলতা দেবনাথ : শুটিং শিডিউল এমনভাবে সাজানো, সমস্যা হয় না। তবে মাঝেমধ্যে পোশাকের কন্টিনিউটি নিয়ে কনফিউশনে পড়লেও শুটিং ইউনিটের কারণে উতরে যাই। অভিনয়ে ব্যস্ত এই সময়টা উপভোগ করছি; কারণ, অভিনয়ে আমি ব্যস্ত হতেই চেয়েছি।

শুধু কি ধারাবাহিকেই অভিনয় করছেন?

স্বর্ণলতা দেবনাথ : মাঝেমধ্যে এক ঘণ্টার নাটকেও কাজ করি। এই তো কদিন আগে শেষ করলাম ‘ছোটবেলার প্রেম’ আর ‘কিউট ছাত্রী’ নামের দুটি খণ্ডনাটকের শুটিং। সামনে ঈদুল ফিতরের এক ঘণ্টার কয়েকটি নাটকের শুটিং নিয়েও কথাবার্তা চূড়ান্ত হয়ে আছে।

মুক্তকণ্ঠ :

কত বছর ধরে অভিনয়ে আছেন?

স্বর্ণলতা দেবনাথ : কোভিডের পর থেকে অভিনয়ের শুরু। পাঁচ বছর হবে। আমার পরিবারে কেউ অভিনয়ে ছিল না। উপস্থাপনা করতে গিয়ে অভিনয়ে আগ্রহ। কিন্তু তখন বাসা থেকে সমর্থন পাইনি। পরে মায়ের উৎসাহে অভিনয় করি। বিয়ের পর স্বামীর কাছ থেকে উৎসাহ-অনুপ্রেরণা পাচ্ছি।

অভিনয়ে কাকে আদর্শ মানেন?

স্বর্ণলতা দেবনাথ : সুবর্ণা (মুস্তাফা) আপা আমার খুব পছন্দ। তাঁর কথা বলার ধরনটা আমার ভীষণ ভালো লাগে। আমার তো অনেক সময় শুনতে হয়, দেখতে তাঁর সঙ্গে নাকি আমার মিলও আছে। এর বাইরে জয়া (আহসান) আপুকে ভালো লাগে। তাঁকে ভালো লাগার সবচেয়ে বড় কারণ, যে চরিত্রই করেন, তা যেন তিনি হয়ে ওঠেন। এর বাইরে আরেকটা কারণ, নিজেকে আমি বাণিজ্যিক ঘরানার চেয়ে শিল্পমানসমৃদ্ধ কাজে বেশি দেখতে চাই। এ ধরনের কাজেও জয়া আপু অনন্য।

মুক্তকণ্ঠ :

সুবর্ণা মুস্তাফার সঙ্গে আপনার মিল, কারা বলেন?

স্বর্ণলতা দেবনাথ : শুটিংয়ের সময় ফ্রেম ধরে অনেক পরিচালক এ ধরনের কথা বলেন। তাঁরা বলেন, আমার মুখের একটা দিক নাকি সুবর্ণা আপার সঙ্গে ভালোই মিল।

কারও সঙ্গে অভিনয়ের স্বপ্ন দেখেন?

স্বর্ণলতা দেবনাথ : আমার চঞ্চল (চৌধুরী) ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করার খুব ইচ্ছা। তাঁর সঙ্গে এখনো কাজ করার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। কেন জানি মনে হয়, চঞ্চল ভাই পর্দায় একটা ম্যাজিক তৈরি করতে পারেন। মোশাররফ ভাইও আমার পছন্দের, তাঁর সঙ্গে কয়েকটা কাজ করার সুযোগ হয়েছে।

মুক্তকণ্ঠ :

আপনি তো উপস্থাপনা করতেন। কবে শুরু?

স্বর্ণলতা দেবনাথ : ২০১৬ সালে, আমি তখন সিদ্ধেশরী গার্লস কলেজের শিক্ষার্থী। করপোরেট শো অনেক করেছি। এরপর আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি উপস্থাপনা আর অভিনয়—দুটোই চলে।

অভিনয় নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

স্বর্ণলতা দেবনাথ : আমি ধীরে চলো নীতিতে বিশ্বাসী। এমন জায়গায় যেতে চাই, যেখান থেকে হারিয়ে যাব না। খুব জলদি ওপরে উঠতে হবে, এটা বিশ্বাস করি না। আমি সিঁড়িতে উঠতে বিশ্বাসী, লিফটে নয়।