গত বছর নিউইয়র্ক সিটির অলবানি শহরের তুষারপাত দেখার স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল অভিনেত্রী সাফা কবিরের। এবার তিনি গেছেন ক্যালিফোর্নিয়ায়। ঘুরে ঘুরে দেখছেন হলিউডসহ লস অ্যাঞ্জেলেসের বিভিন্ন জায়গা। শুটিংয়ের বাইরে সাফার এই অবসর কীভাবে কাটছে, তা জানিয়েছেন মনজুরুল আলম।
কদিন আগে ফেসবুকে হঠাৎ পোস্ট করা একটি ছবিতে দেখা যায় হলিউডে সাফা কবিরকে। ছবিটি আগে তোলা কি না কিংবা সাম্প্রতিক—অনেকেরই প্রশ্ন ছিল। যোগাযোগ করা হলে সাফা জানান, তিনি এখন হলিউডের পাশেই রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘লস অ্যাঞ্জেলেসে আসার পরেই আমার ইচ্ছা ছিল সেরা ভ্রমণের জায়গাগুলো দেখব। সেভাবেই দেশ থেকে প্রস্তুতি নিয়ে এসেছি। সেখানে সবচেয়ে দারুণ জায়গা হলিউড। আর এই হলিউডের সাইনের এখানে সবাই ছবি তোলেন।’ শৈশব থেকেই হলিউড সম্পর্কে শুনেছেন উল্লেখ করে সাফা বলেন, ‘হলিউডের এই জায়গাটা আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। এখান থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের অন্যতম সুন্দর দৃশ্যও দেখা যায়। দারুণ এনজয় করেছি।’
লস অ্যাঞ্জেলেসে তাঁর পছন্দের মধ্যে রয়েছে সান্তা মনিকা পিয়ার, গ্রিফিথ অবজারভেটরিসহ বেশ কিছু জায়গা। ‘সান্তা মনিকা প্রশান্ত মহাসাগরের পাড়ে অবস্থিত পর্যটনকেন্দ্র। এখানকার প্যাসিফিক পার্ক, অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, সোলার চালিত ফেরিস হুইলসহ অনেক কিছু রয়েছে,’ বললেন তিনি।
কেন ঘুরতে পছন্দ করেন—এ বিষয়ে সাফা জানান, আগে টানা শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকতেন। একের পর এক কাজের কারণে নিজেকে দেওয়ার সময় হয়ে উঠত না। ফলে এখন তিনি ঠিক করেছেন নিজের মতো করে প্রতিবছর সময় করে ভ্রমণে যাবেন। প্রায় দেড় বছর পরে এবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন শহর বেছে নেন।
এই অভিনেত্রী বলেন, শুটিংয়ের সময় প্রচুর ঘোরা হয়, কিন্তু সেই ব্যস্ততায় ইচ্ছামতো ঘুরে দেখা সম্ভব হয় না। আফসোস থেকে যায়। তাই এবার শুটিংকে ‘না’ বলে তল্পিতল্পা নিয়ে বেরিয়েছেন সাফা। নতুন পরিবেশ, সংস্কৃতি আর দেশ দেখার আগ্রহ তাঁর আছে। তিনি বলেন, ‘আগেরবার তুষারপাত দেখার ইচ্ছা স্বপ্নের মতো ছিল। শৈশবের স্বপ্নপূরণ। সেই স্বপ্ন থেকে জেগে উঠতে চাইছিলাম না। এবার এখানে আসার পরে ট্যুরিস্ট জায়গাগুলো নিয়ে অনেক জানছি। ঘোরার জন্য সেরা জায়গাগুলোই বেছে নিয়েছি।’
ঘুরতে গেলে কী খোঁজেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে সাফা বলেন, ‘যেখানেই যাই, জায়গাটাকে টপ থেকে দেখতে চেষ্টা করি। কোনো একটা জায়গার টপ ভিউ দেখাটা আমার ছোটবেলা থেকেই অভ্যাস হয়ে গেছে। এবার যুক্তরাষ্ট্রে এসেও সব শহরের টপ ভিউ দেখেছি। আমি যে দেশেই যাই, সেখানেও একই কাজ করি। যে কারণে আমার হলিউডেও আসা। এই জায়গা থেকে পুরো শহরটা দেখা যায়। কিন্তু উঠতে অনেক কষ্ট হয়েছে।’
এদিকে সমুদ্রের পাড়ে বসে খেতেও তাঁর ভীষণ পছন্দ। আর শপিং মলে যেতেই হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। কেনাকাটা করতে ভীষণ পছন্দ করেন—এ কথাও বলেন সাফা। সময় পেলে তিনি বাণ্যিজিক এলাকা ঘুরে দেখেন। পাহাড় আর সমুদ্র—দুটিই বেশি টানে তাঁকে। দেশে কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলে ঘুরতে পছন্দ করেন তিনি।
এবারের ভ্রমণ প্রসঙ্গে সাফা কবির বলেন, গত বছর ফেব্রুয়ারিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। ‘শীতের মধ্যে ভিন্ন একটা অভিজ্ঞতা হয়েছিল। খুব বেশি ঘুরতে পারিনি। যে কারণে এবার সামারকেই বেছে নিয়েছি। সেবার কিছুটা মন খারাপ থাকলেও এবার গ্রীষ্মে এসে অনেক ভালো লেগেছে। আমার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে অসাধারণ মুহূর্ত কাটছে।’