চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ফোন চুরির অভিযোগে মো. তারেক ঢালী নামে এক কিশোরকে তার মায়ের সামনেই নির্মম নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায় এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সকালে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর দক্ষিণ পাড়া প্রধানীয়া বাড়িতে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দপুর গ্রামের জাকির হোসেন ঢালীর ছেলে তারেক ঢাকায় চাকরি করেন। তার ছোট ভাই মো. রাসেলও তার সঙ্গে কাজ করে। ছুটিতে বাড়িতে আসা তারেককে মঙ্গলবার ভোরবেলা বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান পাশের বাড়ির কয়েকজন ব্যক্তি।
নির্যাতিতার মা খুকী বেগম জানান, "১২ বছর আগে ওর বাবা মারা যায়। খাইয়া নাখাইয়া ছেলে দুইটাকে নিয়ে জীবন কাটাই। কোনো কথা না বলে আমার ছেলেকে সফিক, আল আমিন, তানিম, মোতালেব প্রধান তাদের বাড়ি নিয়ে যায়। তাদের বাড়িতে নিয়ে ফোন চুরির কথা বলে গাছের সঙ্গে বেঁধে নারিকেল গাছের ডাল দিয়ে পেটায়। মাথায় গামছা বেঁধে গরম পানি ঢালে। সবাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখে কেউ আমার ছেলেকে তাদের কাছ থেকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি।"
তিনি আরও বলেন, "সোবহান ঢালী, রাকিব প্রধান, শরীফুল ইসলাম, নবী উল্লাহ পাটোয়ারী বিকেল তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে আনে। টাকার অভাবে ছেলেকে ভালোভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। আমি গরিব মানুষ। বিনা অপরাধে যারা আমার ছেলেকে মেরেছে আমি প্রশাসনের কাছে তার বিচার চাই।"
স্থানীয় বাসিন্দা নবী উল্লাহ পাটোয়ারী বলেন, "ওরা দুই ভাই ঢাকায় কাজ করে। খুবই অসহায় ছেলেটাকে তারা হত্যার উদ্দেশ্য ঘর থেকে তুলে নিয়ে যায়। ছেলেটাকে যারা এমনভাবে মেরেছে আমরা তাদের শাস্তি চাই। ওসি সাহেব এসে সঠিক বিচারের আশ্বাস দিয়ে গেছেন।"
এ বিষয়ে মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান মানিক জানান, অভিযুক্ত সফিক প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।