নওগাঁর মান্দায় জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে এক কলাবাগানের প্রায় ১ হাজার ফলন্ত গাছ কেটে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে হামলাকারীরা বসতবাড়িতে ভাঙচুর এবং এক নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে।
গত সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের লক্ষীরামপুর গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ১ হাজার ফলন্ত কলাগাছ কেটে ফেলার ফলে বাগানের আনুমানিক ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া হামলাকারীরা বসতবাড়িতে প্রবেশ করে ঘরবাড়ি ও রান্নার স্থান ভাঙচুর করায় আরও ১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় আবদুল জলিল সরদার বাদী হয়ে মান্দা থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে স্থানীয় আব্দুর রাজ্জাক সরদার, রফিকুল ইসলাম, তরিকুল ইসলাম, মজিদুল ইসলাম, শাহাজান মন্ডল, হাবিবুর রহমান ও আবদুল জব্বারসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে আবদুল জলিল সরদারের সঙ্গে প্রতিপক্ষ আব্দুর রাজ্জাক সরদারের বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে রামদা, হাঁসুয়াসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন ওই জমিতে প্রবেশ করে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, আব্দুর রাজ্জাক সরদারের নির্দেশে একযোগে পুরো বাগানের কলাগাছগুলো কেটে ফেলা হয়।
ভুক্তভোগীরা বাধা দিতে গেলে তাদের ধাওয়া করা হয়। প্রাণভয়ে তারা ঘরে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা টিনের চাল, বেড়া ও ঘরের দরজা ভাঙচুর করে। এ সময় বাধা দিলে এক গৃহবধূকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করার পর পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বাগানমালিক আবদুল জলিল বলেন, "৪০ থেকে ৪৫ জনের একটি দল এসে চোখের সামনে পুরো বাগান কেটে শেষ করে দিল। আমি এই অন্যায়ের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।"
স্থানীয় বাসিন্দা ছফির উদ্দিন তোতা জানান, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক এসে পরিপক্ব কলাগাছগুলো কেটে ফেলে এবং পরে বাড়িতেও তাণ্ডব চালায়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাক সরদার। তার দাবি, জমিটি তার নিজস্ব এবং গাছগুলো অকেজো হয়ে পড়ায় তিনি নিজেই সেগুলো কেটে পরিষ্কার করেছেন।
মান্দা থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, "কলাগাছ নিধন ও বসতবাড়িতে তাণ্ডবের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"