ময়মনসিংহের ত্রিশালে বালুমহালে অভিযান চলাকালে ইজারাদারের এক কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

গত বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের কালীরবাজার এলাকার কুলুরবাড়ি বালুমহালে এই ঘটনা ঘটে। ইজারাদার প্রতিষ্ঠান ‘সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের’ বালু বিক্রির পয়েন্টে ইউএনওর নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে আনসার ও র‍্যাব সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অভিযানের একপর্যায়ে ইউএনও ইজারাদারের কাছে বালুমহালের কাগজপত্র দেখতে চান। এ সময় সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক সারোয়ার জাহান ওরফে বাচ্চু অভিযানে আসা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চান। এরপর কিছুক্ষণ কথাকাটাকাটির পর ইউএনও তাকে পরপর দুটি থাপ্পড় দেন।

ফুটেজে আরও দেখা যায়, র‍্যাবের এক সদস্য সারোয়ারকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে ইউএনও ওই সদস্যের হাত থেকে লাঠি নিয়ে সারোয়ারকে একাধিকবার আঘাত করেন। এ সময় পাশে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমান তাকে থামানোর চেষ্টা করেন।

ইজারাদারপক্ষের দাবি, সরকারি কর্মকর্তা কি না তা নিশ্চিত হতে পরিচয় জানতে চাওয়ায় সারোয়ারকে মারধর করা হয়। পরবর্তীতে তাকে র‍্যাবের গাড়িতে করে ত্রিশালের ধলা এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হলে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের মালিক শামসুজ্জামান মাসুদ বলেন, “প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ মাস আগে আমরা বালুমহালটি বৈধভাবে ইজারা নিয়েছি। আমাদের কর্মী কেবল কর্মকর্তাদের পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন। বিনা কারণে তাকে মারধর করা হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এই বিষয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান জানান, তিনি সিসিটিভি ফুটেজটি দেখেছেন। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।