সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম (হাজী নজরুল) চাঁদাবাজির মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর তাঁর পক্ষে সরব হয়েছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলাম। ইউপি চেয়ারম্যান নজরুলকে কারাগারে পাঠানো ও তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচারকে ‘কঠিন চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের ফল’ বলে দাবি করেছেন তিনি।
আজ বুধবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁর পক্ষে পোস্ট করেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘শ্যামনগরে বুড়িগোয়ালিনীর দুবারের সফল চেয়ারম্যান হাজী নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার নয়, মহমান্য হাইকোর্টের দেওয়া জামিন নামঞ্জুর করে জেলে পাঠানো এবং তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মুখোরোচক অপপ্রচার প্রতিপক্ষের কঠিন চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্রের ফল। বরং ওই দোষে অপপ্রচারকারীরাই শতভাগ দায়ী।’
.ফেসবুক পোস্টে প্রতিপক্ষ প্রাসাদ ষড়যন্ত্র করে বর্ণচোরা মুখোশের আড়ালে নিজেদের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানোর অমানবিক চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এমপি গাজী নজরুল ইসলাম। তিনি লেখেন, ‘এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে শ্যামনগরবাসী এখনই রুখে দাঁড়াতে না পারলে ভবিষ্যতে শ্যামনগরে ন্যায় ও নিষ্ঠাবান নেতৃত্বের উদ্ভব কঠিন হয়ে পড়তে পারে।’
জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও হুমকির অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, তাঁর ছেলে আবদুর রহমানসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন। গত ২৪ মে শ্যামনগর থানায় করা মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
.মামলার সংক্ষিপ্ত এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ১৯ মে রাতে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম। চাঁদা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মেরে ফেলা ও প্রকল্পের স্থাপনায় আগুন দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ২৩ মে প্রকল্প এলাকায় প্রকৌশলী জাহিদ হাসানকে মারধর ও তাঁকে রক্ষা করতে যাওয়া কর্মী ফেরদৌসকেও মারধর করা হয়। এ সময় প্রকৌশলী জাহিদের স্মার্ট ঘড়ি ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ঘটনার শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম। তাঁর দাবি, অভিযোগগুলো মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যখন হামলা হয় বলে অভিযোগ করা হচ্ছে, তখন তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট অধিবেশনে ছিলেন বলেও দাবি করেছিলেন।
.একই দিনে আদালতে সাতক্ষীরার আলোচিত তিন নজরুল ইসলাম, দুজন কারাগারে.এ ঘটনায় মামলার পর উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের জামিন নিয়েছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগী বিশ্বজিৎ মণ্ডল। জামিনের মেয়াদ শেষে গত সোমবার সাতক্ষীরার আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর আজ তাঁর পক্ষে পোস্ট দেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী পবিত্র কুমার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে চাঁদাবাজি ও বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করা হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।