একাত্তরকে ছোট করে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক প্রদর্শনীতে মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে গণ-অভ্যুত্থানকে বড় করে দেখানো একটি চিত্রকর্মের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এগুলো হচ্ছে ছোটলোকি। সব সময় জনগণের বিরুদ্ধে ভূমিকা রেখেছেন বলেই তাঁরা এখন জুলাইকে ক্যাপিটাল বা পুঁজি করতে চাইছেন।’
বুধবার সকালে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রিজভী। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ ছেলে এবং ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর জন্মদিন উপলক্ষে একদল নেতা–কর্মীকে নিয়ে তাঁর কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ করতে যান রিজভী। এ সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকও তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
রিজভী বলেন, ‘আজকে প্রকারান্তরে একাত্তরকে ছোট করার জন্য, একাত্তরকে ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার জন্য বর্তমানে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। একাত্তর, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে যে নামটি অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্নভাবে জড়িত—শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, স্বাধীনতার ঘোষক—তাঁকে মুছে ফেলার একটা গভীর চক্রান্তের প্রচেষ্টা চলছে। আমি বলি যে কাকে খুশি করতে চাইছে? নিশ্চয়ই পলাতক ফ্যাসিস্টকে খুশি করার জন্যই কি আপনারা এই কাজগুলো করছেন?’
প্রদর্শনীর বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, কোনো দলের নাম উল্লেখ না করেই রিজভী বলেন, ‘একটি চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করেছিলেন সাতচল্লিশ থেকে জুলাই পর্যন্ত। সেখানে শেখ মুজিবের ৭ মার্চের ভাষণ আছে, জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা নেই। পরে অনেক ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু তাদের প্রদর্শনীর যে ধরন আমরা দেখেছি...। তাদের ছাত্রসংগঠন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখাচ্ছে—দাঁড়িপাল্লায় একাত্তর হালকা, একাত্তরের পাল্লাটা ওপরের দিকে চলে যায় আর জুলাইকে নিচের দিকে নিয়ে আসা হয়। এগুলো হচ্ছে ছোটলোকি। প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে, প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনারা জনগণের সঙ্গে শত্রুতা করেছেন। একাত্তর, নব্বই, ছিয়াশি—সব সময় আপনারা জনগণের বিরুদ্ধে ছিলেন। সব সময় এমন ভূমিকা রেখেছেন বলেই এখন জুলাইকে আপনারা ক্যাপিটাল বা পুঁজি করতে চাইছেন।’
ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর ভূমিকা স্মরণ করে রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একান্ত সহকর্মী ও সতীর্থ হিসেবে যোগ্য ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী তাঁর (তারেক) আরাধ্য কাজগুলো এই সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করতে পারবেন। এটা সুসম্পন্ন হলেই আরাফাত রহমান কোকোর আত্মা শান্তি পাবে।’ তিনি ক্রীড়ার ওপর একটি বিশ্ববিদ্যালয় করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন।
আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর ঘটনা এবং খালেদা জিয়ার সঙ্গে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অমানবিক আচরণের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একান্ত সহকর্মী ও সতীর্থ হিসেবে যোগ্য ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী তাঁর (তারেক) আরাধ্য কাজগুলো এই সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করতে পারবেন। এটা সুসম্পন্ন হলেই আরাফাত রহমান কোকোর আত্মা শান্তি পাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য শেখ হাসিনা এমন কোনো কাজ নেই, যা করেননি। কারণ, মুক্তিযুদ্ধে তাঁর (শেখ হাসিনা) পরিবারের অবদান নেই—না তাঁর পিতার, না তার নিজের। তারা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে ঢাকায় অবস্থান করেছেন। এই কারণেই প্রতিহিংসা, কেন জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করল?...জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম ও জনপ্রিয়তা শেখ হাসিনা কোনোদিনই বরদাশত করতে পারেনি। তাই একের পর এক যন্ত্রণা দিয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মরহুমা খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শারীরিকভাবে অত্যাচার করা হয়েছে। তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে চলে গিয়েছিলেন। আজকে জনগণের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে শেখ হাসিনাকে। সেই তারেক রহমান আজকে অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী।’