নড়াইল সদর উপজেলার পেড়লী দাখিল মাদ্রাসায় চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজনও পাস করতে পারেনি। ১৭ জন শিক্ষক এবং প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও এমন ফলাফল মাদ্রাসা শিক্ষার মান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে এই ফলাফল মেনে নিতে নারাজ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের (বোর্ড চ্যালেঞ্জ) দাবি জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে পেড়লী দাখিল মাদ্রাসায় সরেজমিনে দেখা যায়, সেখানে স্বাভাবিক পাঠদান চলছে। শিক্ষকেরা নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন এবং অধ্যক্ষের কক্ষে শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

মাদ্রাসার সুপার (অধ্যক্ষ) আশরাফুল জামান বলেন, "অন্যান্য বছর আমাদের ফলাফল বেশ ভালো ছিল; এমনকি গত বছরও শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছিল। এ বছর এমন ফল কেন হলো, তা একেবারেই বোধগম্য নয়। কারণ পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই ভালো শিক্ষার্থী ছিল।"

তিনি আরও জানান, ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করা হবে। যেসব শিক্ষার্থীর ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ বা সন্দেহ রয়েছে, তাদের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনে সহযোগিতা করবে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। বোর্ড চ্যালেঞ্জের ফল প্রকাশের পর প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত পেড়লী দাখিল মাদ্রাসাটি ১৯৯০ সালে প্রথম পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং ১৯৯৩ সালে এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে এখানে সুপারসহ ১৭ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন।

ফলাফল নিয়ে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে পরীক্ষার্থী তুষ্মি খানম বলেন, "আমি পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছিলাম এবং শ্রেণিকক্ষের পরীক্ষাতেও সবসময় ভালো করতাম। দাখিল পরীক্ষায় ইংরেজিসহ সব বিষয়ের পরীক্ষা ভালো হয়েছিল। অথচ ফলাফলে আমাকে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে, যা খুবই অস্বাভাবিক। তাই আমি পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করব।"

একই অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরাও। স্থানীয় বাসিন্দা রুমা বেগম জানান, তার মেয়ে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় ভালো এবং শ্রেণিকক্ষে প্রথম-দ্বিতীয় হতো। পরীক্ষা ভালো দেওয়া সত্ত্বেও তাকে ইংরেজিতে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

যশোর শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর নড়াইল জেলা থেকে মোট ৮ হাজার ২৬২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০৪ জন (সাধারণ বোর্ডে ৩৭০, মাদ্রাসায় ১৬ ও কারিগরিতে ১৮ জন)। জেলার অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে সন্তোষজনক ফলাফল হলেও দুটি দাখিল মাদ্রাসা থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করায় বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

নড়াইল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন বলেন, "জেলার দুটি দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবার কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। দ্রুত ওই প্রতিষ্ঠানগুলোতে গিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলা হবে। কোথায় ঘাটতি ছিল তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে শিক্ষার মান ও ফলাফলে উন্নতি ঘটে।"