রাশিয়ার ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান এফইএস রিটেইলের সাথে রপ্তানিকারকদের পাওনা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বাংলাদেশে ব্যবসা স্থগিতের যে ঘোষণা দিয়েছিল পোল্যান্ডের পোশাক ব্র্যান্ড এলপিপি, তা থেকে সরে এসেছে প্রতিষ্ঠানটি। এখন থেকে তারা আগের মতোই ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং এলপিপি এসএ-এর এক যৌথ বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিজিএমইএ আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি গণমাধ্যমকে অবহিত করে। যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং এলপিপি এসএর পরিচালক দোরোতা ইয়ানকোভস্কা-তোমকুভ।

যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, "তৃতীয় পক্ষের বিরোধে এলপিপির সঙ্গে বাংলাদেশের ৩৫০টির বেশি তৈরি পোশাক সরবরাহকারীর ব্যবসা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সম্মত হয়েছে বিজিএমইএ ও এলপিপি।"\ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "এফইএস রিটেইলের দেনা পরিশোধে আইনিভাবে বাধ্য কোনো পক্ষ নয়। তবে এলপিপি প্রতিষ্ঠানটির দেনা পরিশোধে এলপিপি নিজস্ব আইনি অবস্থান অক্ষুণ্ন রেখে গঠনমূলক সংলাপে সহায়তা করবে।"

এলপিপির অবস্থান স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, "এফইএস রিটেইলের কাছে অর্থপ্রাপ্তির দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিকট উপস্থাপন করা উচিত, যারা এ জন্য আইনিভাবে দায়বদ্ধ"—বিজিএমইএ এই অবস্থানটি বিবেচনায় নিয়েছে। তবে উভয় পক্ষই স্বীকার করেছে যে, ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলো বর্তমানে কঠিন বাণিজ্যিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এসব দায়দেনা নিষ্পত্তির আলোচনা আইনিভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত পক্ষের সাথেই হওয়া উচিত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "বিজিএমইএ ও এলপিপি—উভয় পক্ষ মনে করে যে ঢালাও বা বিভ্রান্তিকর কোনো প্রচার এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ, যা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে অন্য প্রস্তুতকারক, কর্মী বা এলপিপি ও বাংলাদেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।"

এলপিপি নিশ্চিত করেছে যে, সম্প্রতি তাদের সোর্সিং কার্যক্রম পর্যালোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় কর্মীদের সুরক্ষা, আইনি নিশ্চয়তা এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ স্থিতিশীল রাখা। এই পর্যালোচনা প্রস্তুতকারকদের বিরুদ্ধে ছিল না এবং এটি তাদের প্রত্যক্ষ চুক্তিভিত্তিক দায়বদ্ধতাকে প্রভাবিত করে না।

উল্লেখ্য, রাশিয়ার এফইএস রিটেইলের কাছে বাংলাদেশের ৪০ জন রপ্তানিকারকের প্রায় ৪ কোটি ডলার বকেয়া রয়েছে। রপ্তানিকারকদের দাবি, এলপিপির ঢাকা কার্যালয়ের নিশ্চয়তা পেয়েই তারা পণ্য রপ্তানি করেছিলেন। এই বকেয়া আদায়ে গত মাসে দুটি বায়িং হাউসের মালিক এলপিপির ঢাকা কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে মামলা করেন, যার পর পুলিশ অভিযানও চালায়।

এর আগে গত ২১ জুলাই বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বিজিবিএকে চিঠিতে এলপিপি জানায়, তারা ধীরে ধীরে ক্রয়াদেশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরবর্তীতে ৩১ জুলাই সরবরাহকারীদের চিঠিতে নতুন ক্রয়াদেশ এবং পণ্য উন্নয়নের কাজ স্থগিত করার কথা জানানো হয়েছিল।

সরবরাহকারীদের তথ্যমতে, বিদায়ী অর্থবছরে এলপিপি বাংলাদেশ থেকে ৭০ কোটি ডলারের পোশাক কিনেছে এবং চলতি অর্থবছরে ৭৭ কোটি ডলারের আমদানির পরিকল্পনা করেছিল, যার ভিত্তিতে তারা ক্রয়াদেশ পেতে শুরু করেছিলেন।