সাকিব আল হাসান কিংবা শেখ হাসিনা—যিনিই থাকুন না কেন, নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার তারা যথাযথভাবে পাবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, “শুধু সাকিব আল হাসান নয় শেখ হাসিনাও বাংলাদেশে আসলে পূর্ণ নিরাপত্তার সাথে আসবেন, পূর্ণ নিরাপত্তার সাথে বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাবেন, পূর্ণ অধিকার ভোগ করবেন বিচারিক প্রক্রিয়ায়। এরপর আদালত যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটা সবাই মেনে নেব। এটি ফ্যাসিস্ট আমল নয়, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।”
ভারতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে বাংলাদেশ স্পষ্ট জানিয়েছে এ ব্যাপারে আমরা টাফ আছি। দুদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে যে আলাপ করছি, সেটির অনুকূল পরিবেশ ভারতের দিক থেকে তৈরি করতে হবে। শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করার কথা ছিল। আমরা একজন মৃত্যুদণ্ড আসামিকে ফেরত চাই, দেশে আইনের আওয়তায় আনতে চাই। সেটা তো হচ্ছেই না, এবার রীতিমতো সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এ ব্যাপারগুলোকে ভারতকে আন্তরিকভাবে নিতে হবে। এ বার্তা শক্তভাবে দেওয়া হয়েছে এটাতে কোনো সন্দেহ নেই।”
সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন বলে উল্লেখ করেন তথ্য উপদেষ্টা, তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ১৮০ দিন পূর্তির পর মন্ত্রিসভায় রদবদলের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি বলে তিনি জানান। তবে প্রধানমন্ত্রী চাইলে যেকোনো সময় মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়গুলোর কাজের মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন বলে তিনি মনে করেন।
‘র’ প্রধানের ঢাকা সফর প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, “‘র’ প্রধান চীন থেকে ঢাকা এসেছেন। তার এই সফর নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। এটা জল্পনার কিছু নেই। হয়তো তার সফর শেষে সরকার কোনো বিবৃতি দিলেও দিতে পারে।”
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমে যাওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, একসময় শিক্ষার্থীদের যেনতেনভাবে নম্বর দেওয়া ও পাস করিয়ে দেওয়ার প্রবণতা ছিল। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মানসম্মত মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছিল।
এছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস ও আত্মত্যাগ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানাতে সরকারি উদ্যোগে সপ্তাহে একদিন স্কুল শিক্ষার্থীদের জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা। জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন নিয়ে নানা আলোচনা ও সংশয় থাকলেও তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে এবং শুরুর দিকের কিছু ব্যবস্থাপনাগত জটিলতা কাটিয়ে বর্তমানে জাদুঘরটি স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।