নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে চরম প্রাতিষ্ঠানিক বিপর্যয়ের চিত্র ফুটে উঠেছে। উপজেলার তিনটি নন-এমপিওভুক্ত দাখিল মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মোট ১২ জন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেননি। এর ফলে প্রতিষ্ঠান তিনটিতে যোগ হলো শতভাগ অকৃতকার্যতার ‘শূন্যের হ্যাটট্রিক’।

সোমবার (১০ আগস্ট) ফলাফল প্রকাশের পর বদলগাছী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো—গোঁবরচাপাহাট আখতার হামিদ দাখিল মাদ্রাসা, জোলাপাড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা এবং খাদাইল দাখিল মাদ্রাসা।

শিক্ষা অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর বদলগাছী উপজেলা থেকে মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ৫৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে গোঁবরচাপাহাট আখতার হামিদ দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১ জন, জোলাপাড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৩ জন এবং খাদাইল দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন; যাদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গোঁবরচাপাহাট আখতার হামিদ ও জোলাপাড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পাঠদান বা শ্রেণি কার্যক্রম নেই। কক্ষগুলো পরিত্যক্ত এবং আঙিনা আগাছায় পূর্ণ। শিক্ষকেরা নিয়মিত আসেন না, এমনকি শিক্ষার্থীরাও অনুপস্থিত থাকে।

গোঁবরচাপাহাট আখতার হামিদ দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. কামরুজ্জামান জানান, কেবল অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ১ জন শিক্ষার্থীকে নিবন্ধন করিয়ে পরীক্ষায় বসানো হয়েছিল। অন্যদিকে খাদাইল দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিগত বছরগুলোতে ফলাফল ইতিবাচক থাকলেও এবার ৮ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হওয়া দুঃখজনক।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নূর ইসলাম জানান, প্রায় ২০–২৫ বছর ধরে শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা না পাওয়ায় নিয়মিত পাঠদানে চরম অনীহা তৈরি হয়েছে। কেবল প্রাতিষ্ঠানিক নিবন্ধন টিকিয়ে রাখতেই শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করানো হয়েছিল।

এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিউল আলম বলেন, যেহেতু প্রতিষ্ঠানগুলো নন-এমপিওভুক্ত, তাই সেখানে নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষা পরিবেশ নিয়ে সরাসরি তদারকির সুযোগ সীমিত। তবে তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।