রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই এবারের এসএসসি পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো চতরা ইউনিয়নের কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও ঘাষিপুর উচ্চ বিদ্যালয়।
জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে এবার এসএসসি পরীক্ষায় পাশের হার ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ। বোর্ডের অধীনে মোট ২৮৩টি পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল, যার মধ্যে ১৩ হাজার ৬৩৯ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। তবে সামগ্রিকভাবে বোর্ডের ১৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি, যার মধ্যে পীরগঞ্জের এই দুটি বিদ্যালয় রয়েছে।
জানা গেছে, কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৮ জন এবং ঘাষিপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, কোনো শিক্ষার্থীই সফল হতে পারেননি।
এই ফলাফল নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা রোস্তম আলী মিয়া বলেন, "জনসচেতনতার অভাবেও এমন ফলাফল হতে পারে। এলাকার অভিভাবকেরা আরও সচেতন হলে হয়তো প্রতিষ্ঠান দুটির এমন ফলাফল হতো না।"
অন্যদিকে, শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্থানীয় মিলন ও সবুজ মিয়া বলেন, "এমন ফলাফলের জন্য শিক্ষকদেরও দায় রয়েছে। শিক্ষকেরা পাঠদানে আরও সচেতন হলে এমন ফলাফল হতো না।"
ফলাফলের কারণ হিসেবে পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছেন কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহকারী শিক্ষক আব্দুর রউফ। তিনি বলেন, "আমাদের স্কুলে এমন কখনও হয়নি। এবারের পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা থাকায় শিক্ষার্থীরা ভয়ে ভালোভাবে পরীক্ষা দিতে পারেনি।"
একই মত প্রকাশ করেছেন শারীরিক শিক্ষার সহকারী শিক্ষক মুশফিকুর রহমান ও ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক আব্দুল খালেক মিয়া। তারা বলেন, "সিসি ক্যামেরা থাকায় শিক্ষার্থীরা ভয়ের মধ্যে পরীক্ষা দিয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এমন ফলাফল না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
অন্যদিকে, ঘাষিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাফিজার রহমান এমপিওভুক্ত শিক্ষকের স্বল্পতাকে দায়ী করে বলেন, "শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করার বেশ কয়েকটি কারণ আছে। তার মধ্যে বড় কারণ হলো এমপিওভুক্ত শিক্ষকের সংখ্যা কম। যদি এমপিওভুক্ত শিক্ষকের সংখ্যা আরও বেশি হতো তাহলে ভালো পাঠদান হতো।"
এই বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রহমান জানান, স্কুলগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ে সমস্যা ছিল এবং তা আগে জানানো হয়েছিল। তিনি বলেন, "শতভাগ ফেল করার বিষয়ে তাদের শোকজ করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান এই ফলাফলকে উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, "শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটির ফলাফল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"