বিশ্বকাপের রেশ কাটতে না কাটতেই ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে আবারও উত্তাপ ফিরছে। ২০২৬-২৭ মৌসুম শুরুর আগে ইংল্যান্ড, স্পেন, ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্সের শীর্ষ পাঁচ লিগে এসেছে নানা পরিবর্তন। কোথাও রাজত্ব ধরে রাখার লড়াই, আবার কোথাও সিংহাসন পুনরুদ্ধারের চেষ্টা। আগস্টের মাঝামাঝি থেকে আগামী বছরের মে মাস পর্যন্ত চলবে এই ফুটবল মহোৎসব। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগ নিয়ে পাঁচ পর্বের ধারাবাহিক আয়োজনের প্রথম পর্বে আলোচনা করা হয়েছে ফরাসি লিগ আঁ-র বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে।
গত মৌসুমে লাঁসকে ২-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের ১৪তম এবং টানা পঞ্চম লিগ শিরোপা নিশ্চিত করেছিল পিএসজি। ১৬ মে ট্রফি জয়ের সময় পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় দল লাঁসের চেয়ে তারা ৬ পয়েন্ট এগিয়ে ছিল। তবে সাফল্য সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এর ১০ দিন পর বুদাপেস্টের ফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে আর্সেনালকে হারিয়ে লুইস এনরিকের দল টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জয় করে। ট্রেবল জয়ের সেই গৌরবময় স্মৃতি সঙ্গী করেই নতুন মৌসুমে মাঠে নামছে এই ফরাসি পরাশক্তি।
পিএসজি-র কোচ হিসেবে এখনো দায়িত্ব পালন করছেন লুইস এনরিকে। চুক্তি নবায়ন নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে কোচিং পজিশনে পিএসজি অন্যদের চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। লিগের ১৮টি ক্লাবের মধ্যে ১২টিতেই এবার নতুন কোচ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড।
তবে পিএসজির সামনে সহজ পথ হবে না। গত মৌসুমে রানার্সআপ হওয়ার পাশাপাশি ফ্রেঞ্চ কাপ জয়ী লাঁস এবার পূর্ণ আত্মবিশ্বাসে ফিরছে। এছাড়া চ্যাম্পিয়নস লিগের টিকিট পেতে লড়াই করবে মার্শেই, মোনাকো ও লিওঁ। বিশেষ করে মোনাকো ও লিওঁ গত কয়েক মৌসুমের অস্থিতিশীল পারফরম্যান্স কাটিয়ে নিজেদের পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে মরিয়া।
এবারের মৌসুমে লিগ আঁ-তে নতুন করে যোগ দিয়েছে ত্রয়া ও লে মাঁ; অন্যদিকে অবনমিত হয়ে নিচের লিগে নেমে গেছে মেস ও নঁতে। তিন বছর পর শীর্ষ লিগে ফিরে চমক দিয়েছে ত্রয়া। ২০২৬ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের হয়ে দুর্দান্ত খেলা গোলকিপার প্যাট্রিক বিচকে মেলবোর্ন সিটি থেকে দলে ভেড়িয়েছে তারা।
অন্যদিকে, কোচ প্যাট্রিক ভিদেরার অধীনে দীর্ঘ ১৬ বছর পর শীর্ষ লিগে ফেরার অবিশ্বাস্য গল্প লিখেছে লে মাঁ। ২০০৯-১০ মৌসুমের পর এই প্রথম তারা লিগ আঁ-তে খেলবে। তাদের ২৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার নতুন স্টেডিয়াম মারি-মারভিঁতে এবারই প্রথম লিগ আঁ-র ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
ইউরোপীয় আসরগুলোতে ফ্রান্সের প্রতিনিধিত্ব করবে বেশ কয়েকটি ক্লাব। চ্যাম্পিয়নস লিগে সরাসরি খেলবে পিএসজি, লাঁস ও লিল। তবে লিওঁকে মূল পর্বে উঠতে হবে বাছাইপর্ব পার হয়ে। ইউরোপা লিগে অংশ নেবে মার্শেই ও রেনে, আর মোনাকোকে প্লে-অফ জিতে কনফারেন্স লিগে জায়গা করে নিতে হবে।
দলবদলের বাজারে ফরাসি ক্লাবগুলো খুব বেশি সক্রিয় না হলেও কিছু বড় লেনদেন হয়েছে। এখন পর্যন্ত লিগের সবচেয়ে দামি দলবদল হিসেবে ৭ কোটি ৪০ লাখ ইউরোতে পিএসজি থেকে এসি মিলানে যোগ দিয়েছেন গনসালো রামোস। রেনে ছেড়ে ৬ কোটি ৩৬ লাখ ইউরোতে লিভারপুলে গেছেন জেরেমি জ্যাক এবং ৫ কোটি ইউরোতে মোনাকো থেকে পিএসজিতে এসেছেন মাগনেস আকলিওশ।
আগামী ২৯ মে পর্যন্ত চলবে এই মৌসুম। সময়ের সাথে সাথে অনেক সমীকরণ বদলে যেতে পারে, তবে মূল প্রশ্নটি রয়েই যাচ্ছে—পিএসজিকে টেক্কা দেওয়ার মতো আদৌ কি কোনো দল আছে ফ্রান্সে?