ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশ যে ঐতিহাসিক অর্জন করেছে, ম্যাচ শেষে ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলেছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফোনে ভিডিও কলে কথাও বলেন তিনি। বাংলাদেশ ক্রিকেটে এমন উপলক্ষ খুব কমই আসে বলে উল্লেখ করেছেন অধিনায়ক নাজমুল।
বিকেলে সাংবাদিকদের সামনে আসেন তামিম। তিনি বলেন, প্রায় দেড় দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অস্ট্রেলিয়ায় তিনি টেস্ট খেলতে পারেননি। তবে এখন তাঁর উত্তরসূরিদের এমন অর্জনের সময় তামিম রয়েছেন বিসিবি সভাপতির দায়িত্বে।
কৃতিত্ব তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিতে চাননি। তামিম জানান, ‘যেকোনো দলের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় খেলা অনেক কঠিন। ২৩ বছর পর ওখানে গিয়ে যেভাবে ক্রিকেট খেলে বাংলাদেশ দল জিতেছে, তার কৃতিত্ব ১০০০ শতাংশ তাদের। খেলোয়াড়, টিম ম্যানেজমেন্ট, নির্বাচক—সবাইকে কৃতিত্ব দিতে হয়। আমরা বোর্ডে শুধু তাদের সহায়তা করতে, সুযোগ-সুবিধা দিতে ও গাইড করতে আছি। এই অর্জনে অন্য কারও কৃতিত্ব নেই, এটি সম্পূর্ণ টিম ম্যানেজমেন্ট, নির্বাচক এবং খেলোয়াড়দের।’
এদিকে তামিমের আলোচনায় এসেছে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এ শতাব্দীতে জয়হীনতার কথাও। তিনি বলেন, ডারউইন টেস্টে ৯ উইকেটের জয়টা উইকেটের ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো এশিয়ান দেশের জন্যও সবচেয়ে বড়। এই অর্জনের পর খেলোয়াড়রা বোনাস পেতে পারেন কি না—সাংবাদিকদের প্রশ্নে তামিম সরাসরি তা বলেননি।
তিনি বলেন, ‘বোনাসের বিষয়টা আমাদের মধ্যেই (খেলোয়াড় ও বোর্ড) থাকুক। আমরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে এটা নিয়ে আলোচনা করব। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড হিসেবে আমরা খেলোয়াড়দের এই অর্জনে অত্যন্ত গর্বিত। আশা করি বাংলাদেশ ক্রিকেট এখান থেকে আরও এগিয়ে যাবে। এই জয়টি আন্তর্জাতিকভাবে একটি বড় বার্তা দেবে। এটা শুধু একটি জয় নয়, একটা শক্তিশালী বার্তা। আমরা সবাই খুব খুশি।’
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চক্রের পয়েন্ট টেবিলে এখন চার নম্বরে আছে বাংলাদেশ। এবারের চক্রে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি করে টেস্ট আছে তাদের। পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতেও তাদের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলতে হবে বাংলাদেশকে।
দেশের মাটিতে চার টেস্টের সবগুলোতে জিততে পারলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার সম্ভাবনাও তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্ট আলোচনায় এসেছে। এই প্রসঙ্গে তামিমও আশার কথা শোনান, ‘তারা যেভাবে খেলছে তাতে যেকোনো কিছু সম্ভব। আমি খুব বেশি দূরের চিন্তা করতে চাই না। এটা টিম ম্যানেজমেন্ট ও খেলোয়াড়দের কাজ, তারা এটি নিয়ে ভাববে।’