শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ সময় খেলা বিঘ্নিত হলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে ভারত। দেবদূত পাডিক্কালের দুর্দান্ত ১৬৭ রানের ইনিংস এবং ধ্রুব জুরেলের অর্ধশতকের ওপর ভর করে দ্বিতীয় দিন শেষে ৯ উইকেটে ৪৬০ রান সংগ্রহ করেছে তারা।
বৃষ্টি এবং ভেজা আউটফিল্ডের কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর শুরু হয় দ্বিতীয় দিনের খেলা। সব মিলিয়ে এদিন ৫৫ ওভার হারিয়েছে ম্যাচ। প্রথম দিন ২ উইকেটে ২৮৮ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করা ভারত দ্বিতীয় দিনে আরও ১৭২ রান যোগ করে।
দিনের শুরুতেই স্বচ্ছন্দ ব্যাটিং করেন আগের দিনের সেঞ্চুরিয়ান পাডিক্কাল। তবে অন্য প্রান্তে উইকেট নিয়ে ভারতকে চাপে ফেলার চেষ্টা করে শ্রীলঙ্কা। কেশারা নুয়ান্থার বলে ক্রিজ ছেড়ে বড় শট খেলতে গিয়ে মিড অফে ক্যাচ দিয়ে দ্রুত ফেরেন ঋষভ পন্ত। প্রথম দিন ক্র্যাম্পের কারণে মাঠ ছাড়লেও দ্বিতীয় দিনে ব্যাটিংয়ে ফেরেন লোকেশ রাহুল, তবে মাত্র ৫ রান করে নুয়ান্থার বলে শর্ট লেগে ক্যাচ দিয়ে তিনি আউট হন।
এরপর বড় ধাক্কা হিসেবে বিদায় নেন পাডিক্কাল। ১২৯ রান নিয়ে দিন শুরু করা এই বাঁহাতি ব্যাটার দেড়শ রান অতিক্রম করে বড় ইনিংস গড়ছিলেন। শেষ পর্যন্ত প্রবাথ জয়াসুরিয়ার দ্রুতগতির বলে ক্রিজ ছেড়ে এগিয়ে এসে স্টাম্পিংয়ের শিকার হন তিনি। ১৬৭ রানে থামে তার ইনিংস। রবীন্দ্র জাদেজাও বেশি সময় টিকতে পারেননি, নুয়ান্থার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি। একপর্যায়ে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৩৭৭ রান।
সংকটময় মুহূর্তে হাল ধরেন ধ্রুব জুরেল। ২৯ রানে ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার হাতে স্লিপে জীবন পাওয়ার পর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। মানব সুতারের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ৫৫ রান যোগ করে দলকে ৪০০ রানের গণ্ডি পার করান জুরেল। তবে ফিফটির পর খুব বেশি সময় টিকতে পারেননি তিনি; ধনাঞ্জয়ার স্লিপে দুর্দান্ত ক্যাচ দিয়ে আউট হন জুরেল। তার সংগ্রহ ৫১ রান।
দিনের শেষ দিকে মোহাম্মদ সিরাজ ও কুলদীপ যাদব কিছু গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করলেও দ্রুত উইকেট হারায় ভারত। দিনের খেলা শেষে তাদের মোট সংগ্রহ ৯ উইকেটে ৪৬০ রান।
শ্রীলঙ্কার হয়ে প্রবাথ জয়াসুরিয়া ১০৯ রানে ৪ উইকেট এবং অভিষিক্ত কেশারা নুয়ান্থা ৩ উইকেট শিকার করেন।
প্রথম দুই দিনে বৃষ্টির কারণে প্রচুর সময় নষ্ট হওয়ায় ম্যাচের ফলাফল বের করা এখন ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। হাতে থাকা তিন দিনের মধ্যে আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় জয় পেতে হলে বাকি সময়ে ম্যাচের গতি বাড়াতে হবে ভারতকে।