ব্যবসায় লাভ-লোকসান নির্বিশেষে মোট বিক্রি বা টার্নওভারের ওপর কর আরোপের ফলে ঝামেলায় পড়তে পারেন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে এই কর ন্যূনতম ১ শতাংশ হারে আরোপ করা হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে হার কম-বেশি করার ব্যবস্থাও রয়েছে। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, আয়করের বিকল্প হিসেবে বার্ষিক মোট লেনদেনের ওপর এই কর আরোপ হবে। এসব নিয়মকানুন নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে এই অসন্তোষের পেছনে যেসব কারণ আলোচনায় এসেছে তার মধ্যে অন্যতম হলো—

১. মুনাফা না হলেও করের বোঝা

আয়কর ব্যবসার প্রকৃত আয়ের ওপর বা মুনাফার ওপর দেওয়ার কথা থাকলেও টার্নওভার কর কাটা হয় মোট বিক্রি বা প্রাপ্তির ভিত্তিতে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের বছরজুড়ে পণ্য বা সেবা বেচাকেনায় মোট কত লেনদেন হয়েছে, তার ওপরই এ কর বসে। এতে লাভ হয়েছে কি না বা লোকসান হয়েছে কি না—তা বিবেচনায় আসে না। ফলে লোকসানি বা কম লাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলক বড় করের মুখে পড়ে।

২. করদায়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি

যেখানে প্রকৃত লাভের হিসাব অনুযায়ী কর অপেক্ষাকৃত কম আসার কথা, সেখানে বাধ্যতামূলক টার্নওভার করের কারণে করদায় কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত আইনি ও আর্থিক চাপ তৈরির আশঙ্কাও থাকে।

৩. নগদ প্রবাহ বা ক্যাশ ফ্লো সংকট

ব্যবসায় টিকে থাকতে নগদ অর্থের প্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) নিয়মিত মূলধন ও নগদ অর্থের প্রবাহ তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকে। বিক্রির ভিত্তিতে এই কর পরিশোধ করতে গিয়ে দৈনন্দিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা থাকে; এতে নগদ প্রবাহও সংকুচিত হয়।

৪. শর্ত মানা ব্যবসায়ীদের নিরুৎসাহিত করা

নিয়মিত সঠিক হিসাব রাখেন এবং স্বচ্ছভাবে ব্যবসা পরিচালনা করেন—এমন অনেক ব্যবসায়ী টার্নওভার করে তুলনামূলক বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, যাঁরা যথাযথভাবে শর্ত মানেন, তাঁদেরই এ ব্যবস্থায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। এতে সৎ ব্যবসায়ীদের নিরুৎসাহিত হওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগের পরিবেশও সংকুচিত হতে পারে।

প্রভাব কী

টার্নওভার করের চাপ থেকে ব্যবসা-বাণিজ্যে কয়েক ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ রয়েছে। যেমন—

১. ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি কমতে পারে বা গতি কমে যেতে পারে।

২. বাড়তি কর দায়ের কারণে বিনিয়োগে অনীহার শঙ্কা তৈরি হতে পারে।

৩. ব্যবসা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

৪. উদ্যোক্তাদের ওপর চাপ বেড়ে, বেশি কর দিতে হবে—এমন বিষয় থেকে মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।

৫. অর্থনীতির সামগ্রিক অগ্রগতি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।