সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বাসিন্দাদের জন্য সুপেয় পানি সরবরাহে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার অগ্রগতি প্রতিবেদন আগামী ৬০ দিনের মধ্যে হলফনামা আকারে আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এবং সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসককে এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
আজ রোববার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুলসহ এই আদেশ প্রদান করেন। রিট আবেদনকারী পক্ষ জানিয়েছে, শ্যামনগরের বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ ও পর্যাপ্ত পানীয় জল সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে।
এর আগে মানবাধিকার সংগঠন ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার সচিব, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নিরাপদ ও পর্যাপ্ত পানীয় জল সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশনা চেয়ে পরবর্তীতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে হাইকোর্টে রিট করা হয়।
আদালতে রিট আবেদনকারী সংগঠনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মো. কাওছার ও মাকসুদুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খাঁন জিয়াউর রহমান ও মাহফুজ বিন ইউসুফ।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শ্যামনগর উপজেলায় দীর্ঘ সময় ধরে সুপেয় পানির তীব্র সংকট বিরাজ করছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং অতিরিক্ত লবণাক্ততার ফলে এলাকার অধিকাংশ নলকূপ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে প্রতিবছর এপ্রিল থেকে জুলাই মাসের মধ্যে এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। নিরাপদ পানির জন্য স্থানীয় মানুষকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে এবং নারী ও শিশুদের পানি সংগ্রহের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করতে হচ্ছে।