নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় মো. সোহেল (৩০) নামের এক ইউনিয়ন যুবদল নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যার পর উপজেলার ২ নম্বর গোপালপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আহত সোহেল ওই ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার পর সোহেল যখন নিজের বাড়ির সামনে অবস্থান করছিলেন, তখন কয়েকজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এসে তাকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সোহেল কোমরে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা যুবদলের সভাপতি নুরুল আমিন খান অভিযোগ করে বলেন, "বেগমগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নে অবৈধ অস্ত্রধারীদের তৎপরতা দিনদিন বাড়ছে। এর আগেও এলাকায় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে সঠিক আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।" তিনি অবিলম্বে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে যৌথ অভিযানের দাবি জানান।
তবে বিএনপির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে উপজেলা জামায়াত। বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বোরহান উদ্দিন বলেন, "যতটুকু জেনেছি, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে যুবদলের নিজেদের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটেছে। এর আগে গত ৬ আগস্ট আমানউল্যাপুর ইউনিয়নে একটি ইসলামিক পাঠাগারে গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গেও ওই যুবদল নেতা জড়িত ছিলেন। নিজেদের দায় এড়াতে এখন রাজনৈতিক বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।"
ঘটনা প্রসঙ্গে বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবিবুর রহমান জানান, সংবাদের পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে এলাকাটি পুলিশি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, "লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"