জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত অপরাধ ছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুক্তি দিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম।

আজ রোববার তৃতীয় দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে প্রসিকিউটর বলেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ধরতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকার জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল। পরে ওই শিক্ষার্থীদের ধরে তাঁদের জামায়াত-শিবিরের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হতো—এ কারণে সে সময় জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করা ছিল অপরাধ।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক চলবে।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন হচ্ছে। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

আজকের যুক্তিতর্কে ওবায়দুল কাদের ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মুঠোফোনে একটি কথোপকথন তুলে ধরার সময় জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের প্রসঙ্গ উঠে আসে। ওই কথোপকথন তুলে ধরে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার বলেন, ‘২০২৪ সালের ৩১ জুলাই ওবায়দুল কাদের ফোনে আসাদুজ্জামান খানকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘কখন দিচ্ছেন?’ জবাবে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আমি তো এখনো ফাইল প্রসিডিউর প্রসেস করিনি। আমি এখন আইনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে ফাইল প্রসেস শুরু করব।’

ওই কথোপকথনে এরপর ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজকে তো দিবেন।’ জবাবে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘হ্যাঁ, আইনমন্ত্রী মহোদয় তাই বলছেন, আজকেই করবেন। আমি, ওই ফাইলটা আমাদের এখান থেকে যাবে আইন মন্ত্রণালয়ে। আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর একটা ইনিশিয়াল হওয়ার পরই এটা আপনার ফাইনাল হবে।’

এ পর্যায়ে ওবায়দুল কাদের জানতে চান, ‘তার মানে রাতের আগে হচ্ছে না।’ জবাবে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘রাতের আগে হবে না। এটা যথার্থই বলেছেন।’

প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার বলেন, ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান খানের এই কথোপকথন জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত।

ওবায়দুল কাদের ছাড়া এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ। মামলার সব আসামিই পলাতক।