একজন চিকিৎসক যখন রোগীর রোগনির্ণয় বা চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তাঁর সবচেয়ে বড় ভরসা থাকে রোগনির্ণয় পরীক্ষার প্রতিবেদনের ওপর। প্রতিবেদন যদি ভুল হয়, তাহলে ভুল রোগনির্ণয়, অনুপযুক্ত চিকিৎসা, চিকিৎসা শুরতে বিলম্ব, অপ্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ব্যয়—এমনকি প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুও ঘটতে পারে। তাই আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় রোগনির্ণয় পরীক্ষা কোনো সহায়ক সেবা নয়; নিরাপদ, কার্যকর ও বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
প্রশ্ন হলো—বাংলাদেশের হাজারো সরকারি ও বেসরকারি ল্যাবরেটরি বা রোগনির্ণয় পরীক্ষাগারে প্রতিদিন যে লাখো পরীক্ষা সম্পন্ন হয়, এসব ফল কি সর্বত্র নির্ভুল, নির্ভরযোগ্য এবং একই মানসম্পন্ন কি না, তা নিশ্চিত করে কে? একটি রোগীর রক্ত বা টিস্যুর নমুনা ঢাকায় এক ধরনের ফল দিতে পারে, অন্য জেলায় ভিন্ন ফলও দিতে পারে—তাহলে চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত কতটা নির্ভরযোগ্য হবে? এই উদ্বেগ কেবল একেকজন রোগীর নয়; পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থাকেই ছুঁয়ে যায়।
এ ধরনের জাতীয় দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যেই স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার (এনআইএলএমআরসি)। দেশের সর্বোচ্চ রেফারেন্স পরীক্ষাগার হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। হেমাটোলজি, প্যাথলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, মাইক্রোবায়োলজি, ভাইরোলজি, মলিকুলার বায়োলজি, রেডিওলজিসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত বিভাগ নিয়ে গড়ে ওঠা এনআইএলএমআরসিকে কেবল আধুনিক রোগনির্ণয় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা ছিল না; বরং জাতীয় পর্যায়ে রোগনির্ণয় পরীক্ষাগারের মাননিয়ন্ত্রণ, গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং অ্যাক্রেডিটেশনের কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে এগিয়ে নেওয়াই ছিল মূল উদ্দেশ্য।
উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির পাশাপাশি বাস্তবতা হলো—প্রতিষ্ঠানটি এখনও পূর্ণাঙ্গ জাতীয় দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষমতা, জনবল ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনি। সীমিত সম্পদ নিয়েও এনআইএলএমআরসি সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে, তবে সেই সক্ষমতার পূর্ণ প্রয়োগ নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ২০১০ সালে একনেকের অনুমোদন এবং ২০২০ সালে কার্যক্রম শুরু করা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে চারটি মূল ভিত্তির ওপর পরিকল্পনা করা হয়েছিল—উন্নত রোগনির্ণয়, স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণ, জৈব চিকিৎসা গবেষণা এবং পরীক্ষাগারের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ। দায়িত্ব হিসেবে ছিল একটি জাতীয় ল্যাবরেটরি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, বাংলাদেশের জনগণের জন্য নিজস্ব রেফারেন্স ভ্যালু নির্ধারণ, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা চালু করা, উন্নত গবেষণা পরিচালনা এবং সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতের জন্য জাতীয় রেফারেন্স ল্যাবরেটরি হিসেবে কাজ করা।
সীমিত জনবল ও নানা প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এনআইএলএমআরসি তার সক্ষমতার উজ্জ্বল প্রমাণ দেখিয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন শাখায় উন্নত মানের পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনা করছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে তারা ১৫ লাখের বেশি আরটি-পিসিআর পরীক্ষা সম্পন্ন করেছিল। সরকারি চাকরির নিয়োগ ও পরিবহন খাতে ব্যবহৃত ডোপ টেস্টের ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটি দেশের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক রোগী দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে আসেন নির্ভুল ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী পরীক্ষাসেবা গ্রহণের জন্য।
রোগনির্ণয়ের বাইরেও প্রতিষ্ঠানটি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) নজরদারি, বহু–ওষুধপ্রতিরোধী জীবাণুর জিনোম সিকোয়েন্সিং, থ্যালাসেমিয়া গবেষণা, নবজাতক স্ক্রিনিং এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এসব অর্জন পরিষ্কারভাবে দেখায়—দেশের রোগনির্ণয় পরীক্ষাগারব্যবস্থার নেতৃত্ব দেওয়ার মতো বৈজ্ঞানিক দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এনআইএলএমআরসির রয়েছে।
তবে এ প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য কেবল রোগীর পরীক্ষা করা নয়। এনআইএলএমআরসি হওয়ার কথা বাংলাদেশের রোগনির্ণয় ল্যাবরেটরি বা পরীক্ষাগারব্যবস্থার জাতীয় অভিভাবক। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে পরীক্ষাগারের মান নিশ্চিত করতে কঠোর অভ্যন্তরীণ মাননিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত এক্সটারনাল কোয়ালিটি অ্যাসেসমেন্ট (এইকিউএ) এবং আইএসও ১৫১৮৯-এর মতো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী অ্যাক্রেডিটেশন অনুসরণ করা হয়। এতে একই পরীক্ষা দেশের যেকোনো প্রান্তে একই মানের ফল দেয় এবং চিকিৎসক ও রোগী—দুজনের আস্থা তৈরি হয়।
বাংলাদেশেও বহু সরকারি ও বেসরকারি ল্যাবরেটরি আন্তরিকতার সঙ্গে ভালো সেবা দিচ্ছে। কিন্তু জাতীয় পর্যায়ে এমন কোনো সমন্বিত কাঠামো নেই, যা নিয়মিতভাবে পরীক্ষার মান যাচাই করবে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ফলাফল তুলনা করে প্রয়োজনীয় মানোন্নয়নে সহায়তা করবে। এর ফলে একই পরীক্ষা ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভিন্ন ফল দেওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়—যা শুধু রোগীর জন্য নয়, পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্যই উদ্বেগের বিষয়। এই ঘাটতি পূরণের জন্যই এনআইএলএমআরসি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, কিন্তু পরিকল্পনার তুলনায় সাংগঠনিক সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে।
প্রাথমিক পরিকল্পনায় ৭৩৫টি পদের কথা থাকলেও অনুমোদন দেওয়া হয় ২৬০টি এবং অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদন করেছে মাত্র ১১৮টি পদ। বর্তমানে স্থায়ীভাবে কর্মরত প্রায় ৫২ জন। প্রয়োজনীয় বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি–বিশেষজ্ঞ, স্বাস্থ্যতথ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ, আণবিক জীববিজ্ঞানী, বায়োস্ট্যাটিস্টিশিয়ান এবং পরীক্ষাগারের গুণগত মান ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞেরও ঘাটতি রয়েছে। এর ফলে সেবাদানকারীদের অনেক সময় নির্ধারিত কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও কারিগরি দায়িত্বও পালন করতে হয়, যা একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য আদর্শ নয়।
ইতিবাচক দিক হলো, এনআইএলএমআরসি ইতিমধ্যে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের মাধ্যমে ২২টি পরীক্ষাসেবার জন্য আইএসও ১৫১৮৯: ২০২২ স্বীকৃতি অর্জনের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি ফ্রান্সের মেরিয়ো ফাউন্ডেশনের সহায়তায় চিকিৎসক ও মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টদের গুণগত মান ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণ দেওয়াও হচ্ছে—যা আন্তর্জাতিক মান অর্জনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এ–জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির বড় অংশই এখনো দাতা সংস্থার অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল। পরীক্ষাগারের গুণগত মান নিশ্চিত করা কোনো প্রকল্পভিত্তিক কাজ নয়; এটি রাষ্ট্রের স্থায়ী দায়িত্ব। তাই সরকারকে নিজস্ব অর্থায়নের মাধ্যমে এ কার্যক্রম দীর্ঘ মেয়াদে টিকিয়ে রাখতে হবে।
আরেকটি বাস্তবতা হলো, এনআইএলএমআরসির সুনাম যত বেড়েছে, নিয়মিত রোগীসেবার চাপও তত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য সময় ও সম্পদ ব্যয় হচ্ছে দৈনন্দিন পরীক্ষা-নিরীক্ষায়। এতে জাতীয় মাননিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য কৌশলগত দায়িত্বগুলোর জন্য সময় ও সক্ষমতা সংকুচিত হয়ে আসে।
.
সীমিত সম্পদ নিয়েও এনআইএলএমআরসি তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। এখন প্রয়োজন তাকে তার প্রকৃত জাতীয় দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দেওয়া।অধিকতর স্বায়ত্তশাসন, পর্যাপ্ত জনবল, টেকসই অর্থায়ন এবং একটি শক্তিশালী জাতীয় পরীক্ষাগার মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে উপকৃত হবে শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, দেশের প্রতিটি হাসপাতাল, প্রতিটি পরীক্ষাগার, প্রত্যেক চিকিৎসক এবং সর্বোপরি প্রত্যেক নাগরিক।
এতে জাতীয় মানদণ্ড প্রণয়ন, পরীক্ষাগার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, গুণগত মান তদারকি, গবেষণা ও অ্যাক্রেডিটেশন কার্যক্রমের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলো প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পাচ্ছে না। বিশ্বের সফল জাতীয় রেফারেন্স পরীক্ষাগারগুলো সাধারণত প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব দেয়; নিয়মিত রোগনির্ণয়ের কাজ ধীরে ধীরে অন্যান্য পরীক্ষাগারে বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়। বাংলাদেশেরও সেই দিকেই এগোনো দরকার।
সরকার ইতিমধ্যে এনআইএলএমআরসির অবকাঠামো ও অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছে। এখন প্রয়োজন এ বিনিয়োগের পূর্ণ সুফল নিশ্চিত করা। অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় পরীক্ষাগার প্রতিষ্ঠানের মতো এনআইএলএমআরসিকেও অধিকতর প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বায়ত্তশাসন দেওয়া উচিত। এর ফলে বিশেষজ্ঞ জনবল নিয়োগ, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে।
একই সঙ্গে এনআইএলএমআরসির অধীনে একটি জাতীয় পরীক্ষাগার গুণগত মান ও অ্যাক্রেডিটেশন উইং গঠন করা প্রয়োজন, যা সারা দেশে পরীক্ষাগারের মান মূল্যায়ন, বাহ্যিক গুণগত মান যাচাই কর্মসূচি পরিচালনা, জাতীয় মানদণ্ড প্রণয়ন, অ্যাক্রেডিটেশন কার্যক্রমে সহায়তা এবং ল্যাবরেটরি পেশাজীবীদের ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি জিনোমিক মেডিসিন, মলিকুলার ডায়াগনস্টিকস, প্রিসিশন মেডিসিন এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স গবেষণাকে এগিয়ে নিতে একটি জাতীয় পরীক্ষাগার গবেষণা ও উদ্ভাবন তহবিল গঠন করাও সময়ের দাবি।
একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভিত্তি হলো আস্থা। রোগী আস্থা রাখেন চিকিৎসকের ওপর, চিকিৎসক নির্ভর করেন পরীক্ষাগারের প্রতিবেদনের ওপর, সরকার নির্ভর করে জনস্বাস্থ্য-তথ্যের ওপর, আর গবেষক নির্ভর করেন নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্যের ওপর। পরীক্ষাগারের মান নিশ্চিত না হলে এ আস্থার ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়ে। কোভিড-১৯ মহামারি আমাদের দেখিয়েছে, শক্তিশালী পরীক্ষাগারব্যবস্থা শুধু রোগনির্ণয়ের জন্য নয়; রোগ নজরদারি, মহামারি মোকাবিলা, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় স্বাস্থ্যনিরাপত্তার জন্যও অপরিহার্য।
সীমিত সম্পদ নিয়েও এনআইএলএমআরসি তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। এখন প্রয়োজন তাকে তার প্রকৃত জাতীয় দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দেওয়া। অধিকতর স্বায়ত্তশাসন, পর্যাপ্ত জনবল, টেকসই অর্থায়ন এবং একটি শক্তিশালী জাতীয় পরীক্ষাগার মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে উপকৃত হবে শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, দেশের প্রতিটি হাসপাতাল, প্রতিটি পরীক্ষাগার, প্রত্যেক চিকিৎসক এবং সর্বোপরি প্রত্যেক নাগরিক। নির্ভুল পরীক্ষার ফল শুধু সঠিক রোগনির্ণয়েই সহায়তা করে না; এটি মানুষের জীবন রক্ষা করে, স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি আস্থা বাড়ায় এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্যনিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করে। তাই এনআইএলএমআরসিকে শক্তিশালী করা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের দাবি নয়; এটি একটি নির্ভরযোগ্য, আধুনিক ও টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার জাতীয় অঙ্গীকার।
ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ, অধ্যাপক, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আহ্বায়ক, অ্যালায়েন্স ফর হেলথ রিফর্মস বাংলাদেশ
*মতামত লেখকের নিজস্ব।