কুমিল্লার দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরে এক নারীকে নির্মমভাবে হত্যার পর তাঁর মরদেহ টুকরো টুকরো করে পলিথিনে মুড়িয়ে ৯টি প্যাকেটে রাখার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বাড়ির পেছন থেকে এই প্যাকেটগুলো উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত নারীর নাম ফরিদা ইয়াসমিন (৫০)। তিনি ছোট আলমপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী মফিজুল ইসলাম জাহাজে কর্মরত এবং দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তারের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় ফরিদা ইয়াসমিন বাড়িতে একাই থাকতেন। এ ঘটনায় লাইলী আক্তার নামের এক ভাড়াটিয়াকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী আক্তার এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে তিনি আরও চারজনের নাম উল্লেখ করেছেন, তবে তাঁদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। প্রাথমিক ধারণা, স্বর্ণালংকারসহ মালামাল লুটের উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে ফরিদা ইয়াসমিনের ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার বাবার বাড়িতে এসে মাকে খুঁজে পাননি। এরপর খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। একপর্যায়ে সন্ধ্যার দিকে ফরিদার বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে কয়েকটি পলিথিনের প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখেন। প্রত্যক্ষদর্শী মামুন বলেন, "সন্ধ্যার দিকে ফরিদার বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে কয়েকটি পলিথিনের প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখেন। সন্দেহ হলে তিনি কাছে গিয়ে খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।"
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদা ইয়াসমিন প্রায় ৩০ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছিলেন। প্রায় ১৫ দিন আগে তিনি বাড়ির একটি টিনের ঘর লাইলী আক্তারের কাছে ভাড়া দিয়েছিলেন, যেখানে লাইলী তাঁর স্বামীসহ থাকার কথা ছিল। লাইলী দেবীদ্বার পৌর এলাকার চাঁপানাঘর গ্রামের আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন লাইলী আক্তারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এসময় লাইলী স্বীকার করেন যে তিনি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, "ইলী হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং তাঁর স্বামী আবুল কালাম আজাদ, রবিউল, সোহেল ও ইমন নামে আরও তিন যুবক এ ঘটনায় জড়িত বলে দাবি করেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাঁকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করে।"
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "পলিথিনে মোড়ানো ফরিদা ইয়াসমিনের খণ্ডিত মরদেহের ৯টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মাথা ও পায়ের অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।"