কুষ্টিয়া শহরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে গড়াই নদীর ওপর কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছিল হরিপুর সেতু। তবে বর্তমানে এই সেতুটি কুষ্টিয়া ও হরিপুরের লাখো বাসিন্দার জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে সেতুর লাইটগুলো অকেজো হয়ে থাকায় রাত নামলেই পথচারী ও চালকরা সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছেন। পাশাপাশি অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে বাড়ছে ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে প্রায় ৮৬ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫০৪ দশমিক ৫৫ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। উদ্বোধনের সময় এখানে ৩৬টি সোলার ও সাধারণ লাইট স্থাপন করা হয়েছিল। তবে নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই অধিকাংশ লাইট অকেজো হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও সেগুলো মেরামত করা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত আলোর অভাবে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন স্পষ্ট দেখা যায় না, যার ফলে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে সেতুটিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারী ও অপরাধী চক্র।
সেতু দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী অলিউর রহমান বলেন, "দিনের বেলা কোনোমতে পার হওয়া গেলেও সন্ধ্যার পর সেতুটি যেন এক আতঙ্কের নাম। অন্ধকারের কারণে কখন যে পেছন থেকে এসে ছিনতাইকারী চেপে ধরে, সেই ভয়ে থাকতে হয়।"
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা শাওন বলেন, "সেতু পার হওয়ার সময় উল্টো দিক থেকে আসা গাড়ির আলো চোখে এসে পড়ে, কিন্তু সেতুতে কোনো আলো না থাকায় রাস্তা বোঝা যায় না। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।"
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, সেতুটি মূলত জেলা পরিষদের অধীনে। তবে জেলা পরিষদ থেকে পৌরসভাকে অবহিত করা হলে বা অনুরোধ জানানো হলে তা ঠিক করে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই সিদ্দিকী জানান, সেতুর আলোকস্বল্পতা দূর করতে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "সেতুটিতে নতুন করে আধুনিক লাইট স্থাপনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অর্থ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে দ্রুততম সময়ে নতুন লাইট স্থাপনের কাজ শুরু করা হবে।"