আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আজ শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরবর্তীতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হওয়া এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। সভায় দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ নির্বাহী পরিষদের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, "কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সেখানে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, জামায়াত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।"
এই লক্ষ্যেই আগামী রোববার ১১-দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, "বিরোধী দলের প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি ১১–দলীয় ঐক্যের বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে।"
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছাড়াও নির্বাহী পরিষদের এই বৈঠকে দেশের বর্তমান সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কার এবং ১১-দলীয় ঐক্যের ঘোষিত রাজনৈতিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করতে হয়। সেই প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে, যেখানে ভোটগ্রহণের তারিখ ২০ আগস্ট নির্ধারিত হয়েছে।
অন্যদিকে, ১ আগস্ট বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। নতুন রাষ্ট্রপতি কে হতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে বিএনপি এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল বিরাজ করছে।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান ও খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা হাফিজ উদ্দিন আহমদকেও কেউ কেউ সম্ভাব্য তালিকায় রাখছেন।
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং দল ও সরকারে কার ভূমিকা কোথায় বেশি প্রয়োজন—এসব বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে। সব দিক খতিয়ে দেখার পর সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা আগের চেয়ে ছোট হয়ে এসেছে।