কুড়িগ্রামের রাজারহাট থানায় এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার নথি জালিয়াতি, ভুয়া চার্জশিট দাখিল, জাল স্বাক্ষর এবং ১৬১ ধারায় মিথ্যা জবানবন্দি তৈরির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে আসামিপক্ষকে সুবিধা দিতে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ এনেছেন সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে রাজারহাট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন। আরিফুল ইসলাম বর্তমানে রাজারহাট প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং দৈনিক ইত্তেফাকের উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।
সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে আরিফুল ইসলাম জানান, গত ২৭ মার্চ তার ওপর হামলার ঘটনায় ওইদিনই রাজারহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় রাজারহাট উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত আহ্বায়ক আনিছুর রহমানের ছেলে সোহেল আনিছ ও তার সহযোগীদের আসামি করা হয়েছিল। মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই আতিকুল ইসলামকে।
আরিফুল ইসলামের দাবি, তদন্ত কর্মকর্তা আসামিপক্ষকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তদন্ত প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, মামলার বাদী এবং এজাহারভুক্ত প্রধান চারজন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ না করেই ১৬১ ধারায় ভুয়া জবানবন্দি তৈরি করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাদী ও সাক্ষীদের অগোচরে মাত্র ২৫ দিনের মধ্যে মামলাটির একটি দুর্বল চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল আসামিদের সুবিধা দেওয়া।
আরিফুল ইসলাম বলেন, "বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আতিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞার কথা বলে কিছু জানাননি।"
একজন সাংবাদিকের ওপর হামলার মামলার তদন্তে এমন অনিয়মের অভিযোগ পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৩ জুলাই কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপারের কাছে এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন আরিফুল ইসলাম। পুলিশ সুপারের নির্দেশে পরবর্তীতে এএসপি মামলার বাদী ও সাক্ষীদের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করেন। তবে অভিযোগকারী দাবি করেছেন, এখন পর্যন্ত এসআই আতিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কারও বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ওই কর্মকর্তার তদন্ত করা পূর্ববর্তী মামলাগুলোর নথি পুনঃপর্যালোচনার দাবি জানানো হয়।