নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে রাজধানীর গুলশান থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ছয় নেতা-কর্মীকে পৃথক তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
আজ শনিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসানের আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি।
রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন—যশোরের চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী মাসুদ চৌধুরী, সদস্য এস এম রেজওয়ান হাবিব আলিফ ও কর্মী মো. আমিনুর রহমান; যশোরের মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক নান্নু মিয়া, চৌগাছা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. ইব্রাহিম হোসেন এবং মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা আওয়ামী লীগের কর্মী সজল আহমেদ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কে এম মফিজুর রহমান আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষ রিমান্ড শুনানি বাতিল করে জামিন আবেদন জানায়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গতকাল শুক্রবার রাতে গুলশান শুটিং ক্লাবের সামনে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, গুলশান-১ এলাকার একটি শপিং মলের ফুডকোর্টে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বৈঠক করছেন। সেখানে তাঁরা নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড পরিচালনার লক্ষ্যে গোপন পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করছেন।
আবেদনে আরও জানানো হয়, রাত পৌনে ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করেন। এসময় পুলিশ ছয়জনকে আটক করতে সক্ষম হলেও অন্যরা কৌশলে পালিয়ে যান। আটকের সময় আসামিদের কাছ থেকে আওয়ামী লীগের যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলা শাখার একাধিক কমিটির তালিকা জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় আজ গুলশান থানার এসআই জাহিদ হাসান সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশের ভাষ্যমতে, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। আটক ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের সক্রিয় নেতা এবং তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে গুলশান এলাকায় নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করে আসছিলেন। রিমান্ডে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করলে নাশকতার পরিকল্পনা, পলাতক সহযোগীদের শনাক্তকরণ এবং মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হবে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কে এম মফিজুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "গ্রেপ্তার করার সময় তাঁদের কাছ থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপজেলা, ইউনিয়নসহ নানা কমিটির নথি জব্দ করা হয়। মূলত তাঁরা উপজেলা ও ইউনিয়নে নতুন কমিটি গঠনের কাজ করছিলেন। তাঁদের কাছে সভাপতি–সাধারণ সম্পাদকের সিল ছিল। আসামিদের কাছ থেকে জব্দ করা মুঠোফোনের ফরেনসিক তদন্তে বিস্তারিত জানা যাবে।"