ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগরের কাশিকাপনে শিশুসহ ৯ জনের প্রাণহানি ঘটানো দুটি বাসের লাইসেন্স বাতিল করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। দুর্ঘটনার সাথে জড়িত বেঙ্গল (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-২৫৬৩) ও ইউনিক পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব ১২-৫৯৮৭) বাস দুটির বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে চালকদের উপস্থিতিসহ ঘটনার লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বাস মালিকদের।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিআরটিএ এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বিআরটিএ সিলেটের সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "দুর্ঘটনার পরপরই ঢাকা মেট্রো-২ ও ঢাকা মেট্রো-৩ শাখায় বিষয়টি অবহিত করা হয়। পরবর্তীতে শাখা দুটি থেকে বাস দুটির লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও চালকদের উপস্থিত নিশ্চিত করে ঘটনার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"

অন্যদিকে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সিলেট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত শুক্রবার সকাল ৭টা ১০ মিনিটে ওসমানীনগরের কাশিকাপন এলাকায় ইউনিক পরিবহন (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-২৫৬৩) ও বেঙ্গল স্লিপার কোচের (ঢাকা মেট্রো-ব ১২-৫৯৮৭) মুখোমুখি সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে শিশুসহ মোট নয়জন নিহত এবং অন্তত ২৪ জন যাত্রী গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার প্রাথমিক কারণ প্রসঙ্গে সিলেট জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, "দুর্ঘটনার সময় মহাসড়কটি অনেকটাই ফাঁকা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চালকদের বেপরোয়া গতি কিংবা গাড়ি চালানোর সময় ঘুমিয়ে পড়ার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

আহত ও নিহতদের সহায়তায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন একজনকে ১৫ হাজার টাকা এবং অন্যান্য আহতদের ১০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া নিহতদের দাফন-কাফনের জন্য পরিবারপ্রতি ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের দেখতে যান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি জানান, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিহতদের পরিবারপ্রতি ৫ লাখ টাকা, পঙ্গুত্ববরণকারীদের ৩ লাখ টাকা এবং চিকিৎসাধীন আহতদের ১ লাখ টাকা করে অনুদান প্রদান করা হবে।