আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর ছড়িয়েছে। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ইনফোবে-র দাবি, শুক্রবার রাত ১০টায় রোজারিও শহরের একটি সানাতোরিওতে (ক্লিনিক) তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ইনফোবে-র বরাত দিয়ে স্প্যানিশ দৈনিক মার্কাসহ আরও কিছু প্রচারমাধ্যম এই খবরটি প্রকাশ করেছে। তবে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যম কিংবা মেসির পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
এর আগে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে গোল করার পর কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন মেসি। হ্যাটট্রিক করার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেসি জানিয়েছিলেন, "তিনি ব্যক্তিগত একটা কঠিন সময় পার করছেন।"
পরবর্তীতে মেসি পরিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, সিনিয়র মেসি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছেন এবং তাঁর অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। বিশ্বকাপ শেষ করে নিজের শহর রোজারিওতে গিয়েছিলেন মেসি। সেখানে বাবার সঙ্গে সময় কাটিয়ে তিনি পুনরায় ইন্টার মায়ামির অনুশীলনে ফেরেন এবং দলের হয়ে ম্যাচও খেলেছেন।
ব্যবসায়ী ও মেসির দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত প্রতিনিধি হোর্হে মেসি ছিলেন সেলিয়া কুচ্চিতিনির স্বামী এবং লিওনেল মেসি, রদ্রিগো, মাতিয়াস ও মারিয়া সোলের বাবা। মাঠের বাইরে ছেলের ক্যারিয়ারের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।
পেশায় একজন প্রশিক্ষিত রাসায়নিক প্রযুক্তিবিদ হওয়া সিনিয়র মেসি একসময় নিউয়েলসের যুবদলে মাঝমাঠের খেলোয়াড় হিসেবে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তবে সামরিক চাকরির বাধ্যবাধকতার কারণে তাঁকে খেলা ছেড়ে দিতে হয়।
নিউয়েলসের যুবদলে মেসির প্রতিভা যখন আলোচনায় আসে, তখন ছেলের হরমোন চিকিৎসার খরচ জোগাড়ের আপ্রাণ চেষ্টা করেন হোর্হে। ক্লাব থেকে সাড়া না পেয়ে তিনি রিভার প্লেটের সঙ্গে আলোচনা করেন, তবে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনার সঙ্গে এক ব্যতিক্রমী চুক্তি করতে সক্ষম হন তিনি। মাত্র ১৩ বছর বয়সে মেসিকে ক্লাবে ভেড়ানোর পাশাপাশি তাঁর চিকিৎসা খরচ, বার্ষিক বেতন, থাকার ব্যবস্থা এবং পরিবারের জন্য চাকরির নিশ্চয়তা দেয় বার্সেলোনা।
বার্সেলোনায় শুরুর দিনগুলোতে ইউরোপীয় জীবনযাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পরিবার যখন হিমশিম খাচ্ছিল, তখন ছেলের ইচ্ছাতেই সেখানে থেকে যান হোর্হে মেসি। প্রচারমাধ্যমের চোখ থেকে দূরে থেকে তিনি ছেলের ক্যারিয়ারের বাণিজ্যিক দিক এবং বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনার দায়িত্ব সামলাতেন। মাঝেমধ্যে ইনস্টাগ্রামে ছেলের সাফল্য ও পরিবারের মুহূর্তগুলো শেয়ার করতেন তিনি।