হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ এবং জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও পাবনার সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জে পদ্মা নদীতে চলছে যাত্রীবাহী খেয়া নৌকা। উত্তাল নদীতে জীবনঝুঁকি নিয়ে পারাপারের পাশাপাশি যাত্রীদের কাছ থেকে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত অবৈধ টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বর্ষার ভরা মৌসুমে এমন বেপরোয়া যাত্রী পরিবহনের ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নাজিরগঞ্জ ও রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া ঘাটের মধ্যবর্তী পথে প্রতিদিন শত শত যাত্রী খেয়া নৌকায় নদী পার হচ্ছেন। একই রুটে সরকারি ফেরি ও স্পিডবোট চলাচল করলেও থামেনি এই অবৈধ খেয়া নৌকার কার্যক্রম। সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মার তীব্র স্রোত ও ঢেউ উপেক্ষা করে একের পর এক নৌকা যাত্রী নিয়ে নদী পার হচ্ছে। কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করেছেন, নৌকাভেদে তাদের কাছ থেকে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত টোল নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী চক্র বৈধ অনুমোদন বা ইজারা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে এই ঘাট পরিচালনা করছে। প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তির সহযোগিতায় এই কার্যক্রম চলছে বলে তারা অভিযোগ করলেও নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বাসিন্দাদের মতে, বর্ষাকালে পদ্মার ভয়ংকর রূপের মাঝে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে এসব নৌযানের চলাচল যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এছাড়া নৌযানগুলোর ধারণক্ষমতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, নাজিরগঞ্জে অবৈধ খেয়া পরিচালনা ও টোল আদায়ের বিষয়ে গত ২১ এপ্রিল পাবনা জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এর জবাবে গত ১৪ মে জেলা প্রশাসন জানায়, তারা এ ধরনের কোনো অবৈধ খেয়াঘাট সম্পর্কে অবগত নয়। বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে যাত্রী পারাপার বা টোল আদায়ের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।

এদিকে, নাজিরগঞ্জ খেয়াঘাট সংক্রান্ত একটি রিট মামলায় গত ১৬ জুলাই হাইকোর্ট যে স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন, তার মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। তা সত্ত্বেও নদীবন্দরের সীমানার ভেতরে যাত্রী পারাপারের নামে টোল আদায় অব্যাহত রয়েছে।

ঘাটে টোল আদায়কারীদের কয়েকজন দাবি করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা ডা. আবদুল সালামের নির্দেশনায় তারা ঘাট পরিচালনা করছেন। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. আবদুল সালাম বলেন, ‘সাধারণ যাত্রীদের পারাপারের সুবিধার জন্য নৌকার মালিকেরা এই খেয়াঘাট চালাচ্ছেন। এটা আমি লাগাইনি। আমার কি কোনো এখতিয়ার আছে যে আমি সেখানে ঘাট লাগাব?

বিআইডব্লিউটিএর নাজিরগঞ্জ নৌবন্দরের সহকারী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা গাজী মো. আব্দুল মোতালিব বলেন, “কে বা কারা নৌকার মাধ্যমে অবৈধভাবে যাত্রী পারাপার করছে এবং অবৈধ টোল আদায় করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অবৈধ টোল ও যাত্রী পারাপারের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আমরা পত্র দিয়েছি। জেলা প্রশাসক আমাদের জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো টোল বা যাত্রী পারাপারের অনুমতি দেওয়া হয়নি।”

এই বিষয়ে পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, “জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে সরকার দায়বদ্ধ। আমরা খুব শিগগিরই স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে বিআইডব্লিউটিএর সঙ্গে কথা বলব এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেব।”