গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় আলোচিত ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা মো. সালাউদ্দিন মারা গেছেন। শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকার কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের বাবা, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য সামছুল হোদা দুদু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সালাউদ্দিনের মৃত্যুতে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান তার ফেসবুক ভেরিফায়েড আইপিতে একটি শোকবার্তা প্রকাশ করেছেন। তিনি লেখেন, ‘গাইবান্ধার সাঘাটায় অতি-দরিদ্র পরিবারের সন্তান সালাউদ্দিন আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিল (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। একটি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি দখলদারির প্রতিবাদ করতে গিয়ে তার জীবন প্রদীপটাই নিভে গেল। সরকারি দলের যে সন্ত্রাসীদের হাতে তার মূল্যবান জীবনটা চলে গেল তারা কি তার দরিদ্র পিতা-মাতার বুকে তাকে ফিরিয়ে দিতে পারবে? অতি নিন্দনীয় এ ঘটনায় সকল দুষ্কৃতিকারীকে এখনও পাকড়াও করা হয়নি। তাদের পাকড়াও করে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি দিতেই হবে।

তিনি আরও লেখেন, ‘আল্লাহ তায়ালা প্রিয় সালাউদ্দিনকে ক্ষমা করুন, তার উপরে রহম করুন, শহীদ হিসেবে কবুল করুন। তার পিতা-মাতা, আপনজন এবং সহকর্মীদেরকে ধৈর্য ধারণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন। দুর্নীতিবাজ, দখলদার, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ন্যায় এবং ইনসাফের বিজয়ের মধ্য দিয়ে এর প্রতিশোধ নেয়া হবে, ইনশাআল্লাহ।’

উল্লেখ্য, গত ২১ জুন বিকেলে সাঘাটার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন কেন্দ্রিত বিরোধের জেরে বোনারিপাড়া ইউনিয়ন শিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাজ বারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। একই ঘটনায় আহত হয়েছিলেন শিবিরকর্মী মো. সালাউদ্দিন। ঘটনার পর প্রধান অভিযুক্ত বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

২২ জুন নিহত সাইফুল্লাহর বাবা হাবিবুর রহমান সাঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং ১৪-১৫ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়।

সাঘাটা উপজেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাদা বলেন, "দিনদুপুরে এমন হত্যার ঘটনা যে ঘটিয়েছে সেই চাকু পলাশ এখনও এলাকায় ঘুড়ে বেড়ায়। মুকলের বাবা এখনও মানুষকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।"

সাঘাটা যুব জামায়াতের সেক্রেটারি আশিকুর রহমান আপেল এই ঘটনাকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করে বলেন, "জামায়াত-শিবিরকে কোণঠাসা করতে পরিকল্পিতভাবে সাইফুল্লাহ ও সালাউদ্দিনকে হত্যা করা হয়েছে। প্রশাসন সব জেনে আসামিদের ধরছে না।"

সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, সাইফুল্লাহ বারী হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত প্রধান আসামি মোখলেছুর রহমান মুকুলসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।