বগুড়ার সদর উপজেলার এরুলিয়ায় এক ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় সাত শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়দের তীব্র বিক্ষোভের মুখে তাৎক্ষণিকভাবে স্পিড ব্রেকার নির্মাণের কাজ শুরু করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের এরুলিয়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকদের ওপর উঠে যায়।

বগুড়া সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলাম শফিক জানান, "ঢাকা থেকে নওগাঁগামী বাসটি এরুলিয়া এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও চারজনের মৃত্যু হয়।"

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহত সাতজনের সবাই দিনমজুর। তাদের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে; তারা হলেন গাইবান্ধার আমিরুল, নূর আলম ও বেলাল এবং জয়পুরহাটের তাজমুল। এছাড়া আহত অন্তত ১৪ জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দুর্ঘটনার পর সকাল ছয়টা থেকে স্থানীয়রা নওগাঁ-বগুড়া আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন। এর ফলে মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সকাল সোয়া ১০টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহারের পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দুর্ঘটনাস্থলের সামনেই এরুলিয়া উচ্চবিদ্যালয় অবস্থিত এবং সেখানে প্রতিদিন দিনমজুর শ্রমিকদের হাট বসে। এত গুরুত্বপূর্ণ স্থান হওয়া সত্ত্বেও সেখানে কোনো স্পিড ব্রেকার বা চালকদের সতর্ক করার জন্য প্রয়োজনীয় সড়কচিহ্ন ছিল না। অবরোধকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্পিড ব্রেকার নির্মাণের দাবি জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, যার ফলে ওই এলাকায় বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে।

বগুড়া সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল ওয়াজেদ বলেন, "নিহত সাতজনের প্রত্যেক পরিবারের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্পিড ব্রেকার নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়রা অবরোধ তুলে নিয়েছেন। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।"