সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেহেরপুরের গাংনীতে মাদকবিরোধী যৌথ অভিযানের আগে পুলিশ সদস্যদের দেহ তল্লাশির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হলে পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়ম মেনেই এই তল্লাশি চালানো হয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ রেজুলেশনস অব বেঙ্গলের (পিআরবি) ২৮০ বিধির ‘ডি’ উপবিধি অনুযায়ী, তল্লাশি শুরুর আগে পরিচালনা কর্মকর্তা, উপস্থিত সাক্ষী ও সংবাদদাতার দেহ তল্লাশি করা বাধ্যতামূলক। এই প্রক্রিয়াটি সাক্ষী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতিতেই সম্পন্ন করতে হয়। গাংনীতে পরিচালিত অভিযানের ভিডিওটিতে মূলত এই নিয়মটিই পালন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

গত ৪ আগস্ট বিকেলে গাংনী উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়নে এই যৌথ অভিযান চালানো হয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একজন গণমাধ্যমকর্মী পুলিশ সদস্যদের দেহ তল্লাশি করছেন এবং এরপর পুলিশ একটি বাড়িতে প্রবেশ করে অভিযান শুরু করে।

বিষয়টি নিয়ে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, "মেহেরপুর জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে আমরা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছি। যৌথ অভিযানের আগে আমরা নিজেরাই উপস্থিত ব্যক্তিদের আমাদের তল্লাশি করতে বলি, যাতে পরে কেউ বলতে না পারে যে পুলিশ নিজেরা কোনো কিছু নিয়ে গিয়ে উদ্ধার দেখিয়েছে বা কাউকে ফাঁসিয়েছে। পুলিশ সদস্যদের পূর্ণাঙ্গভাবে তল্লাশি করার পরই ভেতরে অভিযান পরিচালনা করা হয়।"

মেহেরপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া ফোকাল পারসন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামিনুর রহমান খান জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় এক মাস ধরে জেলাজুড়ে ব্লক রেইড চালানো হচ্ছে। মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ চলছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট কাজীপুর ইউনিয়নের পাঁচটি পৃথক স্থানে পরিচালিত ওই যৌথ অভিযানে চার কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা, ২১ পিস ইয়াবা এবং একটি মোটরবাইক উদ্ধার করা হয়। অভিযানে সাতজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— শিপন (৪৫), তানজিলা খাতুন (৪৭), ফজল (৬৫), রানা (২২), জাহিদ হাসান (২৮), হাবিবুল ইসলাম (৩৬) ও শাহিন আলম (৫০)। তাদের মধ্যে কেউ কেউ গাংনী উপজেলার এবং বাকিরা কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বাসিন্দা। এই ঘটনায় গাংনী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।