রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য আওয়ামী লীগ আবারও ‘জঙ্গিবাদের ন্যারেটিভ’ সামনে আনার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই দাবি করে বলেন, এটি মূলত তাদের একটি পুরোনো রাজনৈতিক কৌশল।

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ৫ আগস্ট আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল অংশগ্রহণ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিগত ১৭ বছরে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো বিশ্ববাসীর দৃষ্টি থেকে আড়াল করতেই দলটি এই কৌশল ব্যবহার করত এবং এখন বিদেশের মাটিতে বসেও তারা একই কাজ করছে।

শামা ওবায়েদ বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার ও শক্তিশালী বিরোধী দল থাকায় জঙ্গিবাদের কোনো সুযোগ নেই; আওয়ামী লীগ কেবল আন্তর্জাতিক মহলের মনোযোগ পেতেই এসব মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি জানান, শেখ হাসিনার বিতর্কিত ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, "ভারতের মাটিতে বসে একজন ‘সাজাপ্রাপ্ত স্বৈরাচার’ এবং তার দলের নেতারা যদি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র চালিয়ে যান এবং ভারত সরকার তা বন্ধ না করে, তবে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হবে।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, পানিবণ্টন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মতো বহুমাত্রিক সহযোগিতার আলোচনা অব্যাহত থাকবে, তবে ভারতকে অবশ্যই জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের অনুভূতির প্রতি আরও সংবেদনশীল হতে হবে।

আওয়ামী লীগের বর্তমান মানবাধিকারবিষয়ক বক্তব্যকে ‘হাস্যকর’ বলে অভিহিত করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, যখন ইলিয়াস আলীসহ অসংখ্য মানুষ গুম হয়েছিলেন কিংবা জুলাই-আগস্টে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, তখন তাদের মানবাধিকার চেতনা কোথায় ছিল।

পরিশেষে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন ঐক্যবদ্ধ এবং গত ১৮ বছরের ‘ফ্যাসিবাদী শাসনের’ পুনরাবৃত্তি তারা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।