জুনে ঢাকায় ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিলেন মারনাস লাবুশেন। মাস দুয়েক পর আবারও বাংলাদেশের মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি, এবার টেস্ট সিরিজে। ক্রিকেট থেকে ৮ সপ্তাহের এই বিরতিটাই নাকি লাবুশেনের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে দীর্ঘ।
তবে সময়টা তিনি ফেলে রাখেননি। নিজের ব্যাটিংয়ের ছোটখাটো ত্রুটি শুধরে নেওয়ার দিকেই ছিল তাঁর মনোযোগ। ব্রিসবেনে বাংলাদেশ সিরিজের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়া। আজ তারা ম্যাচ পরিস্থিতি তৈরি করে (সিমুলেশন) নিজেদের মধ্যে অনুশীলন করেছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে লাবুশেন জানিয়েছেন, দুই মাসের বিরতিটা তাঁকে কতটা কাজে দিয়েছে। ‘আট সপ্তাহ ধরে নিজের মৌলিক বিষয়গুলোতে মনোযোগ দেওয়া ও উন্নতির জন্য কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাধারণ বিষয়গুলো চর্চা করেছি, নিজের ব্যাটিংয়ের ধরন ও সার্বিক টেকনিক নিয়েও কাজ হয়েছে। এমন কিছু আমার খুব প্রয়োজন ছিল।’
তবে ব্যাট হাতে সময়টা তেমন ভালো যাচ্ছে না লাবুশেনের। ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ১৩ টেস্টে ৫ সেঞ্চুরি ও ৯ ফিফটি ছিল তাঁর, ব্যাটিং গড় ছিল ৭২.৮৩। কিন্তু ২০২৩ অ্যাশেজের পর খেলা সর্বশেষ ২০ টেস্টে কোনো সেঞ্চুরিই নেই, গড়ও নেমে গেছে ২৬.৬১–এ।
টানা ম্যাচের ব্যস্ততায় সাধারণত ছোটখাটো বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করার পর্যাপ্ত সময় মেলে না। এবার বিরতি পাওয়ার পর লাবুশেন আশাবাদী, এই সময়টা তাঁর দীর্ঘ সেঞ্চুরি-খরাকে কাটাতে সহায়তা করবে। আর দ্রুত ফল পাওয়ার প্রত্যাশার কথাও বলেছেন তিনি, ‘নিজের সেরা ছন্দে ফেরার জন্য ঠিক কী প্রয়োজন, বিরতিটা সেটি বুঝে নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এর জন্য প্রস্তুতিও খুব ভালো হয়েছে, আশা করি এই পরিশ্রমের পর আমরা ইতিবাচক ফল দেখতে পাব।’
নিজের অফ-ফর্মের পেছনের কারণও ব্যাখ্যা করেছেন লাবুশেন, ‘চার-পাঁচ বছর ধরে সেসব টেকনিক্যাল (সমস্যাগুলো) কেবল বাড়তেই থাকে, বাড়তেই থাকে। আর আমি সব সময় সমস্যাগুলোর স্বল্পমেয়াদি সমাধান খোঁজার চেষ্টা করে গেছি।’
বাংলাদেশ সিরিজের আগে তাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানেই জোর দিচ্ছেন লাবুশেন। ডারউইনে শুরু হতে যাওয়া সিরিজেই পুরোনো ছন্দে ফেরার আশা করছেন তিনি। ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে বাংলাদেশ–অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম টেস্ট, দ্বিতীয় টেস্ট ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে।