সাবেক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে প্রথম সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরার নওয়াব হাবিবউল্লাহ স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে ঢাকা-১৮ আসনে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, "আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার জিয়াউর রহমান গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, খাল খনন কর্মসূচি এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণ অভিযানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে শিখিয়েছিলেন কীভাবে প্রকৃতিকে ভালোবেসে স্বনির্ভর দেশ গড়ে তোলা যায়।"

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, "প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে গাজীপুরের শালনায় নিজ হাতে মেহগনির চারা রোপণ করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযানকে জনগণের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দিয়েছিলেন। তিনিই ১৯৯৪ সালে জাতীয় বৃক্ষমেলার সূচনা করেন।"

অনুষ্ঠানে প্রতিটি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং তরুণ ও যুব সংগঠনকে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও নিয়মিত পরিচর্যার আহ্বান জানান পরিবেশমন্ত্রী। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের বৃক্ষাচ্ছাদন ২৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারিত সময়ের আগেই অর্জন করা সম্ভব হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, "একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, এটি আমাদের পরিবেশ রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।"

তিনি আরও বলেন যে, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি প্রতিটি চারার যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার অনুযায়ী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বিষয়ে সবাইকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন সতর্ক করে বলেন, "আমরা যদি গাছ টিকিয়ে রাখতে পারি, তবে আমাদের জীবনও হুমকির মুখে পড়ে যাবে।"

তিনি ঘোষণা করেন যে, ঢাকা-১৮ আসনের মাঠে-ঘাটে এবং আনাচে-কানাচে বৃক্ষরোপণ করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করে মাসব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। এই কর্মসূচির আওতায় ঢাকা-১৮ আসনের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উন্মুক্ত স্থানে পর্যায়ক্রমে বৃক্ষরোপণ করা হবে।