ঝালকাঠির সদর উপজেলার কীর্তিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির এক সাংগঠনিক সভায় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রহিম মিয়ার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। উক্ত সভায় যোগ দিয়ে বিএনপি নেতাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি।
গত বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে কীর্তিপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সভাকক্ষে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম এজাজ হাসান। সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আনিসুজ্জামান চপল এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক মিয়া।
তবে সভার আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে আসে আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহিম মিয়ার উপস্থিতি। তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম এজাজ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মো. খোকন মল্লিকসহ অন্যান্য নেতাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
এই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে। তাদের দাবি, অতীতে আবদুর রহিম মিয়াকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সঙ্গে তার একাধিক ছবিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, আবদুর রহিম মিয়া দলীয় প্রতীকে নয়, বরং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘আনারস’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের স্বার্থেই তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন বলে তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে কথা বলে আবদুর রহিম মিয়া বলেন, "আমার বাবা ও দাদাসহ পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি এবং সব সময় মানুষের কল্যাণে কাজ করেছি। আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী এবং ভবিষ্যতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেই সম্পৃক্ত থাকতে চাই। বিগত দিনে পরিস্থিতি ও চাপের মুখে পড়ে বাধ্য হয়ে আমাকে আমির হোসেন আমুর প্রোগ্রামে যেতে হয়েছিল।"
অন্যদিকে, ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম এজাজ হাসান জানান, "কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে বিএনপিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি বা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের কোনো সুযোগ নেই। যেহেতু ইউনিয়ন পরিষদে বিএনপির সভাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছিল, তাই সৌজন্যতার খাতিরে ইউপি চেয়ারম্যান রহিম মিয়া আমাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এটি বিএনপির একটি নিয়মিত সাংগঠনিক সভা ছিল, যেখানে দলের নীতিমালার বাইরে কোনো কাজ করা হয়নি।"