সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার গাজীপুর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আখতারুজ্জামানকে (৭৩) কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে আগামী সোমবার তাঁর রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন এই আদেশ প্রদান করেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হামিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামির সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। তবে মামলার মূল নথি আদালতে না থাকায় রিমান্ডের বিষয়ে শুনানি সম্ভব হয়নি। ফলে আসামিকে কারাগারে পাঠিয়ে আগামী সোমবার শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার রাতে গুলশানের একটি বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ তাঁকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবি-র তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মো. মাসুদুর রহমান।

ডিবি-র আবেদনে উল্লেখ করা হয়, "প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি এ মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত আছেন মর্মে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। এ মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত সহযোগী অন্য পলাতক আসামিদের নাম–ঠিকানা সংগ্রহপূর্বক গ্রেপ্তার এবং তাঁদের রাষ্ট্রবিরোধী অবৈধ পরিকল্পনার তথ্য সংগ্রহ, ককটেল বোমার উৎসসহ মামলার ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্‌ঘাটনের জন্য নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রয়োজন।"

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৮ জুন সকালে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার মহাখালী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় নিবাস মজুমদারসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৩৫-৪০ জন নেতা-কর্মী একটি মিছিল বের করেন। ওই মিছিলে তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দেন এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টিসহ রাষ্ট্রবিরোধী নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। এই ঘটনায় তেজগাঁও থানা পুলিশ মামলাটি দায়ের করে।

উল্লেখ্য, গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেছিলেন। এর আগে ১৯৯৬ সালে তিনি গাজীপুর-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।