প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সমাবেশে যোগদানে বাধা দিতে তাঁর গুলশানের বাসার সামনে বালুভর্তি ট্রাক দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং পেপার স্প্রে ব্যবহার করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশাকে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী শুনানির পর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বসুন্ধরার বাসা থেকে জগলুল পাশাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গতকাল বুধবার ডিবির গুলশান জোনাল টিমের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন তাঁর ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করলে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং আজ রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন।

আজ বেলা ১টা ৪০ মিনিটে পুলিশের নিরাপত্তায় জগলুল পাশাকে আদালতের হাজতখানা থেকে কাঠগড়ায় আনা হয়। তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, "জগলুল পাশাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তা মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন ও অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে সহায়ক হবে। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে আসামিকে এ মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।"

শুনানি চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ওমর ফারুক ফারুকী আদালতকে বলেন, "তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বাসভবনে অবরুদ্ধ করে রাখার অন্যতম কারিগর এই জগলুল। খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করতে তাঁর বাসার সামনে বালুর ট্রাক রাখা হয়। ছিটানো হয় বিষাক্ত রাসায়নিক (পেপার), যার নির্দেশ দেন এই জগলুল। পদের অপব্যবহার করে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করে নিজের ফায়দা লুটেছেন তিনি।"

অন্যদিকে, আসামি জগলুল পাশার আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ রিমান্ড বাতিল করে জামিন আবেদন জানান। তিনি যুক্তি দেন, মামলাটি ২০২৪ সালে করা হয়েছে এবং সেই সময় জগলুল যুগ্ম সচিব ছিলেন। তিনি আরও বলেন, "তিনি ছাত্রজীবন, চাকরিজীবন বা অবসরজীবনে কখনো রাজনীতি করেননি। এ মামলার অভিযোগে সম্পর্কে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আসামির রাজনৈতিক কোনো পরিচয় নেই। সেই সময় ঘটনারস্থলে আসামি যাননি।"

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বেলা ১টা ৫৩ মিনিটে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। উল্লেখ্য, শুনানি চলাকালীন এবং পরবর্তীতে হাজতে নেওয়ার সময় জগলুল পাশাকে মুচকি হাসতে দেখা গেলেও হাসির কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো কথা বলেননি।

ডিবির গুলশান জোনাল টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন মুক্তকণ্ঠকে জানান, ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর ১১১ জনকে এজাহারভুক্ত করে মামলাটি করা হয়। গ্রেপ্তার আসামি জগলুল এই মামলার ১৭ নম্বর আসামি। এ পর্যন্ত মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গুলশান থানায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লতিফ হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শাওন মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর জগলুল পাশাসহ ১১১ জন এজাহারনামীয় আসামি এবং অজ্ঞাতপরিচয় ২৫০ থেকে ৩০০ জন মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রসহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসার সামনে সকাল থেকে অবস্থান করে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীদের মারধর করেন। আসামিরা রাস্তার ওপর অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম চালিয়ে রাস্তা বন্ধ করে রাখেন এবং জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটান যাতে খালেদা জিয়া সমাবেশে যোগদান করতে না পারেন।

আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর সকাল ৯টার সময় খালেদা জিয়া সফরসঙ্গীদের নিয়ে 'মার্চ ফর ডেমোক্রেসি' সমাবেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে আসামিরা বালুর ট্রাকসহ বিভিন্ন ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে বাধা দেন। এছাড়া খালেদা জিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ পেপার স্প্রে ব্যবহার করেন, যাতে খালেদা জিয়াসহ তাঁর সঙ্গে থাকা নেতা–কর্মীরা আহত হন।