জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের মারার নির্দেশ দেওয়ার প্রসঙ্গে ট্রাইব্যুনালে একটি অডিও রেকর্ড বাজিয়ে শুনিয়েছে প্রসিকিউশন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আজ বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের কথিত অডিও রেকর্ডটি শোনানো হয়।

অডিওতে সাদ্দামের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদেরকে বলতে শোনা যায়, ‘পিটাও না কেন? মারো না কেন ওদের? প্রশ্রয় দাও কেন?’

ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে প্রসিকিউশন অডিওটি বাজিয়ে শোনায়। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, আন্দোলনকারীদের পেটানোর জন্য ছাত্রলীগের সভাপতিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ২০২৪ সালের ১১ জুলাই আদেশ দেন।

যুক্তিতর্কে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেন, ছাত্রলীগের সভাপতিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পেটাতে বলার প্রভাব দেখা গেছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বেধড়ক পিটিয়েছে ছাত্রলীগ।

এ ছাড়া প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের মধ্যে আরও একটি কথোপকথনের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় পলককে কাদের ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দিতে বলেছিলেন। পলক নেত্রীর অনুমতির কথা বলেন। তখন কাদের নেত্রীর অনুমতি নিয়েই ইন্টারনেটের গতি কমাতে বলেন। পরে ইন্টারনেটের গতি কমার ঘটনা ঘটে।

ওবায়দুল কাদের ছাড়া এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ। এ মামলার সব আসামিই পলাতক।