দুই বছর পর পুনরায় সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পেলেন নাসিম হোসাইন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে তাকে এই পদে বহাল করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, "২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর সিলেট মহানগর বিএনপির সহসভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশক্রমে এখন থেকে নাসিম হোসাইনকে পুনরায় সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হলো।"
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, তাকে সিলেট মহানগর বিএনপিকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে সচেষ্ট থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের অনুলিপি বিএনপির সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ, সহসাংগঠনিক সম্পাদক কলিমউদ্দিন আহমেদ মিলন ও মিফতাহ সিদ্দিকী এবং সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর কাছে পাঠানো হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী জানান, কেন্দ্রের এই নির্দেশনার মাধ্যমে নাসিম হোসাইন পুনরায় সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
উল্লেখ্য, কাউন্সিলের মাধ্যমে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন নাসিম হোসাইন। তবে ২০২৪ সালের আগস্টের আন্দোলনের সময় তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করায় তার পদটি স্থগিত করা হয়েছিল। এরপর প্রথমে মিফতাহ সিদ্দিকী এবং পরবর্তীতে কয়েস লোদীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এর আগে গত বছরের ২৫ নভেম্বর নাসিম হোসাইনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় বিএনপি। স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের পর তিনি নিজেকে সভাপতি দাবি করলে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর সঙ্গে তার অনুসারীদের বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে নগরীর কাজিটুলা এলাকায় দুই নেতার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হট্টগোল বাঁধলেও দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। তখন হাইকমান্ডের স্পষ্ট নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত নাসিম হোসাইনকে সভাপতি পরিচয় দেওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।