আইনি জটিলতা ও ঋণের দায়ে চরম সংকটে বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদব। ১৬ বছর পুরোনো একটি চেক বাউন্স মামলায় বর্তমানে কারাগারে থাকা এই অভিনেতার সম্পত্তি নিলামের উদ্যোগ নিয়েছে সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়া। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর তাঁর সম্পত্তি নিলাম হতে যাচ্ছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশের বান্ডায় অবস্থিত রাজপাল যাদবের একটি সম্পত্তি নিলামে তোলা হবে, যার আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি ১০ লাখ রুপি। ঋণের অর্থ আদায়ের লক্ষ্যে ব্যাংকের পক্ষ থেকে কচেহরি রোডে অবস্থিত তাঁর পৈতৃক বাড়িতে এবং তাঁর মালিকানাধীন আরেকটি প্লটের সামনে নিলামের নোটিশ টাঙানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজপাল যাদবের স্ত্রী রাধা যাদব ও মা গোদাবরী দেবীর নামে মোট ১৬ কোটি ৬১ লাখ রুপি ঋণ বকেয়া রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে আসছে সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়া। উত্তর প্রদেশের শাহজাহানপুরে বাবা নওরঙ্গ যাদবের সম্পত্তি বন্ধক রেখে রাজপাল যাদব ৫ কোটি রুপি ঋণ নিয়েছিলেন। তবে নির্ধারিত সময়ে তা পরিশোধ না করায় সুদসহ বকেয়া অর্থের পরিমাণ বেড়ে ১১ কোটি রুপিতে দাঁড়ায়।
২০২৪ সালেই সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এই সম্পত্তিটি জব্দ করে। ৮ আগস্ট ব্যাংকের বান্দ্রা-কুরলা কমপ্লেক্স শাখার একটি দল শাহজাহানপুরে গিয়ে ওই সম্পত্তি ‘সিল’ করে দেয় এবং সেখানে একটি ব্যানার টাঙিয়ে জানানো হয় যে, সম্পত্তিটি এখন ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এর কোনো ধরনের কেনাবেচা বা লেনদেন করা যাবে না। ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাংক এই ঋণটিকে ‘খেলাপি ঋণ’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করে নোটিশ জারি করে।
এর আগে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ঋণ পরিশোধের বিষয়ে সমঝোতা হলেও নির্ধারিত সময়ে তা কার্যকর হয়নি। ফলে মুম্বাই ঋণ পুনরুদ্ধার ট্রাইব্যুনালের (মুম্বাই ডেট রিকভারি ট্রাইব্যুনাল) নির্দেশে পুনরায় ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নিলামের তালিকায় শুধু বান্ডার সম্পত্তিই নয়, বরং মুম্বাই ও অন্যান্য স্থানে থাকা তাঁর ফ্ল্যাট এবং পৈতৃক গ্রাম কুন্ডরার জমি ও বাড়িও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অন্যদিকে, ২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘আতা পাতা লাপাতা’ ছবি সংক্রান্ত একটি চেক বাউন্স মামলায় বর্তমানে তিহার কারাগারে রয়েছেন রাজপাল যাদব। গত ১০ জুলাই মামলার শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্ট অভিনেতাকে তিরস্কার করে তিন মাসের কারাদণ্ড ও জরিমানা প্রদান করেন। আদালত তাঁর আচরণকে ‘সন্দেহজনক’ বলে মন্তব্য করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ সালে ‘আতা পাতা লাপাতা’ ছবি নির্মাণের জন্য রাজপাল যাদব ৫ কোটি রুপি ঋণ নিয়েছিলেন, যা তিনি পরিশোধ করতে পারেননি। তাঁর বিরুদ্ধে চেক বাউন্সের সাতটি পৃথক মামলায় প্রায় ৯ কোটি রুপি বকেয়া ঋণ রয়েছে। ২০২৪ সালে সেশনস কোর্ট তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিলেও দিল্লি হাইকোর্ট সাময়িকভাবে সাজা স্থগিত করেছিলেন। তবে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাঁকে তিহার কারাগারে আত্মসমর্পণ করতে হয়, যেখানে তিনি ১২ দিন ছিলেন। বর্তমানে তিনি আবারও ওই মামলায় কারাগারে রয়েছেন।