এক সময়ের তারকা তৈরির কারখানা হিসেবে পরিচিত রিয়াল মাদ্রিদের একাডেমি 'লা ফাব্রিকা' এখন ক্লাবের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। মাঠের শিরোপার পাশাপাশি এবার দলবদলের বাজারে অর্থ আয়ের নতুন ইতিহাস গড়ল রিয়ালের এই একাডেমি।
স্প্যানিশ দৈনিক এএসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি গ্রীষ্মে কেবল একাডেমিতে বেড়ে ওঠা খেলোয়াড়দের বিক্রি করেই ১৮ কোটি ৯০ লাখ ইউরো (প্রায় ২২ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার) আয় করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। দলবদলের জানলা এখনো খোলা থাকায় এই আয়ের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ক্লাবের ইতিহাসে এক গ্রীষ্মে আয়ের ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ রেকর্ড। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো মহাতারকা কিংবা ২০১৯ সালে কেইলর নাভাসদের বিদায়ের বছরেও রিয়াল এত অর্থ আয় করতে পারেনি। ২০১৮ সালে রোনালদো (১১.৭ কোটি), ওমর মাসকারেল, লুকাস তোরো ও ফিলিপ লিনহার্টকে বিক্রি করে মোট ১৩ কোটি ৬১ লাখ ইউরো (প্রায় ১৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার) আয় হয়েছিল। আবার ২০১৯ সালে মাতেও কোভাচিচ, মার্কোস লরেন্তে, থিও এরনান্দেজ, রাউল দে তোমাস ও নাভাসদের বিক্রয়লব্ধ অর্থ ছিল ১৩ কোটি ৬৮ লাখ ইউরো (প্রায় ১৬ কোটি ডলার)। এবার শুধু একাডেমি গ্র্যাজুয়েটদের বিক্রিতেই সেই দুই মৌসুমের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে ক্লাবটি।
আয়ের এই বড় অঙ্কের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন ২১ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার নিকো পাজ। তাকে ইতালির কোমোতে বিক্রি করে রিয়াল আয় করেছে ৬ কোটি ইউরো (প্রায় ৭ কোটি ডলার)। এছাড়া ২২ বছর বয়সী স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড গনসালো গার্সিয়াকে ফুলহামে বিক্রি করে এসেছে ৪ কোটি ইউরো (প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার)। পাশাপাশি ভিক্টর মুনিয়োজ, মারিও গিলা, আলভারো রদ্রিগেস, আলেক্স হিমেনেস এবং সিজার পালাসিওসসহ আরও বেশ কয়েকজন তরুণ খেলোয়াড়ের দলবদল থেকে বড় অঙ্কের অর্থ পেয়েছে রিয়াল।
আয়ের এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। স্ট্রাসবুর্গ জাকোবো ওর্তেগার জন্য ৮০ লাখ ইউরো (প্রায় ৯৩ লাখ ডলার) খরচ করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে সার্জিও আরিবাস অন্য ক্লাবে গেলে তাঁর দলবদলের অর্থের ৫০ শতাংশও পাবে রিয়াল। এই চুক্তিগুলো সম্পন্ন হলে মোট আয়ের অঙ্ক ২০ কোটি ইউরো (প্রায় ২৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার) ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দলবদল বাজারে রিয়ালের এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে রয়েছে মাঠের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। গত মৌসুমে রিয়ালের অনূর্ধ্ব-১৯ দল (জুভেনিল এ) ইতিহাস গড়ে যুব ট্রেবল জয় করেছে, যার মধ্যে রয়েছে উয়েফা ইয়ুথ লিগ, অনূর্ধ্ব-১৯ লিগের গ্রুপ শিরোপা এবং কোপা দে কাম্পেওনেস।
ফুটবল গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিআইইএস ফুটবল অবজারভেটরির ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ বছরে একাডেমি খেলোয়াড় বিক্রি করে আয়ের তালিকায় রিয়াল মাদ্রিদ সপ্তম স্থানে রয়েছে। এই সময়ে ক্লাবটির মোট আয় ৩৯ কোটি ৫০ লাখ ইউরো (৪২ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি)। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে বেনফিকা, আয়াক্স ও চেলসি।
রিয়ালের এই ব্যবসায়িক কৌশলের একটি বিশেষ দিক হলো ‘সেল-অন ক্লজ’। অনেক খেলোয়াড়কে বিক্রি করলেও ভবিষ্যৎ দলবদলে নির্দিষ্ট শতাংশ পাওয়ার শর্ত রেখে দেয় ক্লাবটি। ফলে খেলোয়াড় অন্য ক্লাবে গেলেও পরবর্তী বিক্রয় থেকে নিয়মিত আয় নিশ্চিত করতে পারে রিয়াল। এবারের গ্রীষ্মের এই বিপুল আয় প্রমাণ করছে যে, একাডেমি এখন রিয়ালের অন্যতম লাভজনক ব্যবসায়িক মডেলে পরিণত হয়েছে।